শাহ আলী মাজারসংলগ্ন পাইকারি বাজারে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ মেহেদী হাসান শুভর বিরুদ্ধে; নামের বিভ্রান্তি কাজে লাগিয়ে হাফিজুল হাসান শুভ্রকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের।
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারসংলগ্ন পাইকারি বাজারের আড়ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসান শুভ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি দারুস সালাম থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেহেদী হাসান শুভ বিভিন্ন পাইকারি ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছেন। তাঁর ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ ঘটনায় হাফিজুল হাসান শুভ্রের নাম জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, প্রকৃত অভিযুক্তকে আড়াল করতে ‘শুভ’ ও ‘শুভ্র’ নামের আংশিক মিলকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু মহল তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। কথায় আছে, ‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’। নামের আংশিক মিলের কারণে হাফিজুল হাসান শুভ্রকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ বিষয়ে মসজিদের কয়েকজন মুসল্লিদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই-বাছাই না করে প্রচার করা উচিত নয়। তাঁদের মতে, কেউ মসজিদকেন্দ্রিক সামাজিক বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেই তিনি অভিযোগের ঊর্ধ্বে নন, আবার রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা নামের মিলের কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করাও গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা নামের মিলের কারণে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হলে তা উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা থাকলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে হাফিজুল হাসান শুভ্র বলেন, “যেহেতু আমি রাজনীতি করি এবং সমাজে উন্নয়ন ও গঠনমূলক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত, পাশাপাশি নিজ এলাকার একটি মসজিদের সঙ্গেও জড়িত আছি, সে ক্ষেত্রে আমাকে নিয়ে বিভিন্নজন অপপ্রচার চালাতেই পারে।
আপনারা যাচাই-বাছাই করে দেখুন, আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না। আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সমাজে সম্মান ক্ষুণ্ন করতেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করছে।
আপনাদের অনুসন্ধানে যদি আমার কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি বা দখলদারত্বের প্রমাণ উঠে আসে, তাহলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আপনারা আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেবেন, আমি সেটা মাথা পেতে নেব। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ৫৫ থেকে ৬০টির অধিক মামলা খেয়েছি। আমি ১৭ বছর এলাকার মধ্যে বসবাস করতে পারিনি। এখন যখন আস্তে আস্তে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে, তখন নিজের দলের লোকেরাই, যারা আমার কারণে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন না, তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যাচার ও অপবাদ ছড়াচ্ছেন।
যখন বয়স ছিল, তখনই তো কিছু করিনি। বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সে আমি এসব কেন করতে যাব? আমি কোনো চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব কিংবা কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। যারা এসব করছে, আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন।”
এদিকে, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান শুভর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় মানহানির বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে। ৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের সরল কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। এ ছাড়া কাউকে ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে জেনেশুনে মিথ্যা ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এসব ধারার প্রয়োগ নির্ভর করবে অভিযোগের ধরন, প্রমাণ ও আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর।
সব মিলিয়ে, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং রাজনৈতিক পরিচয় বা নামের বিভ্রান্তি কাজে লাগিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।






