বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও লেগ গার্ড পরেও রক্ষা পাননি; ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরলেন আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা, জানালেন পুলিশেরও রয়েছে পরিবার ও প্রিয়জন।
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ছোড়া বড় আকারের ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া।
সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও লেগ গার্ডসহ প্রায় সব ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা ছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীদের ছোড়া বড় আকারের একটি ইট এসে আঘাত করে তাঁর বাম কাঁধের জয়েন্টে, যেখানে কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা ছিল না।
স্ট্যাটাসে তিনি জীবনের অনিশ্চয়তা তুলে ধরে লেখেন, এত সুরক্ষার মধ্যেও শরীরের অরক্ষিত একটি ছোট্ট জায়গা মনে করিয়ে দিয়েছে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন ও মৃত্যুর দূরত্ব কখনো কখনো মাত্র কয়েক ইঞ্চি।
আহত হওয়ার পর খোঁজখবর নেওয়া ও উদ্বেগ প্রকাশকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আঘাত খুব বেশি গুরুতর নয়। কিছুদিন বিশ্রাম নিলে ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, তাঁদের সঙ্গে পুলিশের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। আন্দোলনকারীদের যেমন পরিবার, স্বপ্ন ও দাবি-দাওয়া রয়েছে, তেমনি পুলিশ সদস্যদেরও পরিবার, সন্তান ও প্রিয়জন রয়েছে। দিনশেষে পুলিশ সদস্যরাও কারও সন্তান, কারও বাবা কিংবা স্বামী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের ইউনিফর্মের আড়ালেও একজন মানুষ থাকেন। তাঁরও ব্যথা, অনুভূতি এবং পরিবারের কাছে সুস্থ শরীরে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিস্থিতি যত প্রতিকূলই হোক, দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ তাঁদের নেই।
ইট নিক্ষেপকারী ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, হয়তো যিনি ইট ছুড়েছেন, তিনি জানেনও না তাঁর ছোড়া ইটের আঘাতে আহত মানুষটির ঘরেও কেউ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন।
আন্দোলন ও দাবি আদায়ের সংগ্রাম শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো আন্দোলনে যেন কারও রক্ত না ঝরে, কোনো মায়ের বুক খালি না হয় এবং কোনো সন্তানের অপেক্ষা যেন চিরদিনের জন্য অপেক্ষা হয়ে না থাকে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে সবাইকে হেফাজতে রাখার প্রার্থনা জানিয়েছেন।
তাঁর এই বক্তব্যে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের মানবিক অনুভূতি, জীবনের ঝুঁকি এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রত্যাশার বিষয়টি উঠে এসেছে।






