আইনি কাঠামো, বয়সসীমা নির্ধারণ ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য পৃথক আইন ও তহবিল গঠনের আহ্বান
প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য অবসর ভাতা চালুর সরকারি আশ্বাসকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও এর বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট আইন, নীতিমালা, বয়সসীমা নির্ধারণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের নানা আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “শুধু ঘোষণা নয়, আইনগত কাঠামো ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হবে না।”
তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা) এবং অনুচ্ছেদ ২০ (কর্মের অধিকার ও মর্যাদা) উল্লেখ করে সাংবাদিক কল্যাণে পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি জানান।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে হোটেল অরনেটের হলরুমে বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ত্রৈমাসিক সাধারণ সভায় ‘সরকারের অগ্রগতি ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি রাজু আলীম। উদ্বোধক ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আহসান উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ রনি। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক পরিষদের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এডিটরস ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক ধর এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম। সভায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের জন্য অবসর ভাতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে পৃথক “সাংবাদিক কল্যাণ আইন” প্রণয়ন জরুরি। এতে অবসর ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ন্যূনতম বয়সসীমা ৬০ বা ৬৫ বছর নির্ধারণ, পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ, সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল গঠন এবং স্বাধীন তদারকি ও অডিট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
উপজেলা ও মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরা সভায় তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা রাজনৈতিক চাপ, মামলা-হামলা, শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। একজন সাংবাদিক বলেন, “আমরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি, কিন্তু কোনো নিরাপত্তা নেই।” আরেকজন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে হুমকি ও চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
তারা এসব ঘটনার প্রতিকার ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি “সাংবাদিক সুরক্ষা সেল” গঠনের দাবি জানান।
সভায় এ বছরই “জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ”-কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সভায় বক্তারা একমত হন যে, প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে কেবল সরকারি আশ্বাস যথেষ্ট নয়; এর জন্য আইন, নীতিমালা, স্বচ্ছ তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এই উদ্যোগ অতীতের মতো অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।






