রাজধানী

মিরপুরে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ভ্যানচালককে হত্যা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানাধীন দ্বিতীয় কলোনি এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিল্লাল হোসেন (৪০) নামে এক ভ্যানচালককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত বিল্লাল বরিশালের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে পোড়া গার্মেন্টসের পেছনের বস্তিতে বসবাস করে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে পোড়া গার্মেন্টসের পেছনে নির্মাণাধীন একটি অ্যাপার্টমেন্টের নিচে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কয়েকজন দুর্বৃত্ত বিল্লালের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা স্থানীয়ভাবে সক্রিয় ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের অনেককে বিভিন্ন সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা যায় বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান সাধারণ মানুষ; এলাকায় সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের মতে, দারুস সালাম থানা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা পর্যাপ্ত নয়; বিশেষ করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
সচেতন মহলের অভিমত, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ও প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতার সুযোগে এসব অপরাধী চক্র ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২ ধারা (খুন), ৩৯৪ ধারা (ডাকাতির সময় আঘাত) এবং ৩৯৭ ধারা (অস্ত্রসহ ডাকাতি) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। প্রয়োজনে কিশোর অপরাধ সংশ্লিষ্ট আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, কিশোর গ্যাং ও মাদক চক্র দমনে বিশেষ অভিযান এবং দারুস সালাম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের জবাবদিহিমূলক ও দৃশ্যমান ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

Leave a Reply