বিশ্ব পথশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে অসহায়, পরিত্যক্ত ও অভিভাবকহীন নবজাতকদের মুখে হাসি ফোটাতে এক হৃদয়ছোঁয়া মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে ডা: মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন। রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ছিল দত্তক হস্তান্তর, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং সচেতনতা র্যালি—সব মিলিয়ে যেন মানবতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
নতুন আশার আলো জ্বালালো আইসিইউ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি। তিনি বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিজেলস (হাম) আইসিইউ এর উদ্বোধন করেন।
বক্তব্যে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এই ছোট্ট প্রাণগুলো কোনো অপরাধ করেনি, তবুও তারা অবহেলার শিকার। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। রাষ্ট্র ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে, এমন উদ্যোগই বদলে দিতে পারে অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ। তিনি এ উদ্যোগকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
মায়ের কোলে ফিরলো তিনটি ছোট্ট প্রাণ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল তিন পথনবজাতক ফালাক, আনাবিয়া ও মিনহাজকে নতুন পালক পরিবারের কাছে হস্তান্তর। এই দৃশ্যে উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। যেন দীর্ঘ অন্ধকারের পর তারা খুঁজে পেল ভালোবাসার এক নিরাপদ আশ্রয়।
এছাড়া পূর্বে উদ্ধার হওয়া মুগ্ধ, ফারিস্তা ও জোহরানকেও স্নেহময় পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা অনুষ্ঠানে এক অনন্য আবেগের সঞ্চার করে।
মানবতার নীরব যোদ্ধা ফাউন্ডেশন ডা: মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা: মো: মজিবুর রহমান জানান, আমরা শুধু শিশুদের বাঁচাতে চাই না, তাদের একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে চাই। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৬২ জন নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিরাপদ পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৯ জন নবজাতককে যথাযথ সম্মানে দাফন করা হয়েছে, এবং হাইড্রোক্যাফালাসে আক্রান্ত ১৫ জন শিশুর সফল অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে।
আইসিইউ সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি সরকারের কাছে তিনটি ভেন্টিলেটর মেশিন স্থাপনের আবেদন জানান।
সমাজের সচেতন কণ্ঠগুলো এক হলো অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর, এমপি বলেন, যে সমাজ তার অসহায় শিশুদের রক্ষা করতে পারে না, সে সমাজ কখনো উন্নত হতে পারে না। তিনি ফাউন্ডেশনটিকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু), জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজন।
র্যালিতে ছড়িয়ে পড়ল মানবতার ডাক অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন সচেতনতা র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পথনবজাতকেরা আপনজন, হবে না কোনো বিভাজন এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অংশগ্রহণকারীরা সমাজের প্রতিটি স্তরে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল মানবতার এক জাগরণ। যেখানে প্রতিটি শিশুর জীবনের মূল্য সমান, প্রতিটি কান্নার উত্তর আছে ভালোবাসায়। পথ নবজাতকদের জন্য এমন উদ্যোগ প্রমাণ করে অন্ধকার যতই গভীর হোক, কোথাও না কোথাও আলো জ্বলে ওঠেই।






