বিমানবন্দরে অসংলগ্ন অবস্থায় উদ্ধার; আঙুলের ছাপে পরিচয় নিশ্চিত—নির্যাতনের অভিযোগে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অসংলগ্ন অবস্থায় পৌঁছানোর পর টানা ১৩ দিন পরিচয়হীন ছিলেন সৌদি ফেরত রিজিয়া বেগম। অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে দায়িত্বে থাকা সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যরা জানান, তখন তিনি নিজের ঠিকানা বা স্বজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না। পরে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ব্র্যাক-এর মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে পাঠানো হয়।
পরিচয় শনাক্তে যুক্ত হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আঙুলের ছাপ জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামে। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রিজিয়ার পরিবার জানায়, কয়েক বছর আগে দালালের মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ছিল এবং দীর্ঘদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। দেশে ফেরার পরও তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
একই অনুষ্ঠানে সৌদি ফেরত আরেক নারী (ছদ্মনাম রিমা আক্তার) বিদেশে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে একাধিকবার হাতবদল হয়ে শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সহায়তা পাচ্ছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। ভুক্তভোগীরা যেন দ্রুত আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পান, সে জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিদেশগামী নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর থেকেই একটি স্থায়ী সাপোর্ট সিস্টেম চালু করা দরকার, যেখানে পরিচয় শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আইনি পরামর্শ ও মানসিক সহায়তা একসঙ্গে প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারির দাবি জানান তারা।






