ভয়মুক্ত ভোট কি আদৌ সম্ভব? একাধিক সূত্রের মতে, নির্বাচনের আগমুহূর্তে নিরাপত্তা উদ্বেগে ঢাকা–১৪ ও ১৬ আসনের ভোটাররা; স্বাধীন মত প্রকাশ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এমন সংকটময় মুহূর্তে রাজধানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—ঢাকা–১৪ ও ঢাকা–১৬—ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, গোপন তৎপরতা এবং গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই দুই আসনকে ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে সেনাবাহিনী—এমন তথ্য মিলেছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে।
প্রকাশ্যে স্বাভাবিক পরিবেশের আড়ালে ভেতরে ভেতরে চলছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দিনের বেলায় সব শান্ত থাকলেও রাত নামলেই কিছু এলাকায় বাড়ছে অচেনা লোকজনের আনাগোনা, অঘোষিত বৈঠক এবং হঠাৎ জমায়েত। ভোটের শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
একজন দায়িত্বশীল নিরাপত্তা সূত্র বলেন,
“এটা সাধারণ সতর্কতা নয়। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন কিছু আলামত পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাই ঢাকা–১৪ ও ১৬ আসনকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।”
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরাও। এক মানবাধিকার প্রতিনিধি বলেন,
“নির্বাচনের আগে যদি ভোটারদের মধ্যে ভয় বা চাপ তৈরি হয়, তাহলে সেটি সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে চাপা আতঙ্কের কথা। ঢাকা–১৪ আসনের এক বাসিন্দা বলেন,
“দিনে সব ঠিক আছে মনে হয়, কিন্তু রাতে পরিবেশ বদলে যায়। আমরা চাই শান্তিতে ভোট দিতে—ভয় নিয়ে না।”
ঢাকা–১৬ আসনের আরেক ভোটার বলেন,
“নির্বাচন এলেই এখানে অচেনা লোক দেখা যায়। কারা আসে, কেন আসে—কেউ কিছু জানে না। এই অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে ভয়ংকর।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের ঠিক আগের সময়টাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। এই সময়ে গুজব, উসকানি কিংবা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা মুহূর্তেই বড় পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। সে কারণেই সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে না বললেও ভেতরে ভেতরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পরিস্থিতির প্রতিটি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নিরাপত্তা কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আনা হবে। তবে সবকিছুই করা হচ্ছে নীরবে—কারণ সামান্য ভুল বার্তাও আতঙ্ক ছড়াতে পারে।
ভোটের বাকি মাত্র তিন দিনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ‘ডেঞ্জার জোন’ ঘোষণার পর আদৌ কি ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন?






