রাজধানী

তিন মাসের বেতন-বোনাস বকেয়া: দারুস-সালাম থানার সামনে সড়ক অবরোধে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ

তিন মাস ধরে বেতন, বোনাস ও ভাতা না পেয়ে রাজধানীর মিরপুরে দারুস-সালাম থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন লিডেল পয়েন্ট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা।
আজ বিকেল পাঁচটা থেকে শতাধিক শ্রমিক দারুস-সালাম থানার সামনে অবস্থান নিয়ে প্রধান সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, লিডেল পয়েন্ট গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ গত তিন মাস ধরে তাদের বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছে। একাধিকবার মালিকপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
এক শ্রমিক বলেন,
“আমরা নিয়মিত কাজ করেছি, কিন্তু আমাদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে।”
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে দারুস-সালাম থানার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। তবে সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”


পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে উদ্যোগ নেন। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক মানবাধিকার কর্মী বলেন,
“শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সময়মতো বেতন পাওয়া সংবিধান ও শ্রম আইনে স্বীকৃত অধিকার। দীর্ঘদিন বেতন না দেওয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন। মালিকপক্ষের অবহেলা ও প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই শ্রমিকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হয়রানি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধের লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply