রাজধানী

আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে দারুস সালামে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মুখোমুখি সংঘর্ষ কতটা সমচীন—নির্বাচনী রাজনীতিতে সহিংসতার যৌক্তিকতা কোথায়?

বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ; পাল্টাপাল্টি মামলায় ২০–২৫ জন এজাহারনামীয়, বাকিরা অজ্ঞাত আসামি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন লালকুঠি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এস.এ. সিদ্দিক সাজুর সমর্থকদের মধ্যে একাধিক দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


সংঘর্ষ চলাকালে ধারণকৃত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারধরের একাধিক ভিডিও ফুটেজ দৈনিক আমাদের সমাচার অনলাইন মাল্টিমিডিয়ার হাতে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুটেজে প্রকাশ্যে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ঘটনার পর দারুস সালাম থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলির পক্ষে রাসেল হাওলাদার বাদী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস.এ. সিদ্দিক সাজুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। অপরদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজুর পক্ষে আব্দুল জলিল বাদী হয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তুলির সমর্থকদের বিরুদ্ধে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।


থানা সূত্রে জানা গেছে, দুই মামলাতেই প্রার্থী তুলি ও সাজু সরাসরি আসামি নন। তবে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় মামলায় ২০ থেকে ২৫ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মামলায় আরও ১৫ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংঘর্ষ, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়।
দারুস সালাম থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন,
“মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজনৈতিক নেতা বলেন,
“নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে।”
এক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি বলেন,
“নির্বাচনী সহিংসতা মানবাধিকারের পরিপন্থী। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”


এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
লালকুঠি এলাকার এক ভোটার বলেন,
“শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই, কিন্তু এসব সংঘর্ষে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”


আরেক ভোটার বলেন,
“রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply