রাজধানী

কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কিশোর-তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে রক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করায় অন্তর্বর্তী সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)।

এক বিবৃতিতে বাটা জানায়, দীর্ঘ এক যুগ পর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী সংশোধন একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টসহ নতুন তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি।
বাটা আরও জানায়, অনুমোদিত অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানসহ সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ,
তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা,
তামাক পণ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার পরিসর ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা,
এবং নিকোটিন পাউচসহ নতুন নিকোটিন পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা।
তবে, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাটা জানায়, খুচরা শলাকা বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ এবং তামাক পণ্য বিক্রেতাদের লাইসেন্সিং বা নিবন্ধন ব্যবস্থা—যা তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি—অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর ফলে শিশু-কিশোর ও স্বল্প আয়ের মানুষ সহজেই তামাক পণ্যের নাগাল পাচ্ছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বাটা দৃঢ়ভাবে মনে করে, তামাক কোম্পানির কর ফাঁকি, অবৈধ বাণিজ্য এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাক পণ্য বিক্রি রোধে খুচরা শলাকা বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ ও বিক্রেতা নিবন্ধন ব্যবস্থা দ্রুত অন্তর্ভুক্ত ও কার্যকর করা জরুরি। এ বিষয়ে সরকার শিগগিরই প্রয়োজনীয় পরিপূরক আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে বলে জোট আশাবাদ ব্যক্ত করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বাটা মনে করে, সদ্য অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ একটি তামাকমুক্ত ও সুস্থ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, সিভিল সোসাইটি এবং তরুণ সমাজকে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply