ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির রাজনৈতিক মাঠে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচনাযোগ্য বিষয় হচ্ছে দলের ভেতরকার মনোনয়ন সংকট। বাহ্যিকভাবে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু হলেও ভেতরে ভেতরে জমছে তীব্র অসন্তোষ—আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই পক্ষের টানাপোড়েন।
মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত মাঠে রয়েছেন। বাড়ি-বাড়ি প্রচারণা, উঠান বৈঠক, পথসভা—সব মিলিয়ে সে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে সক্রিয়। বৃহস্পতিবার বাগবাড়ী এলাকায় অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকেও ছিল স্থানীয় নারীরা ও তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি।
কিন্তু একই সময় অন্য প্রান্তে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বিএনপির আরেক অংশ, এস এ সিদ্দিক সাজুর সমর্থকরা সানজিদা ইসলাম তুলির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে। হাতে মশাল, মুখে স্লোগান—তাদের প্রতিবাদ সভা এলাকাজুড়ে উত্তেজনার জন্ম দেয়। সাজুর অনুসারীরা দাবি করেন, “যোগ্যতার বিচারে সাজুই এই আসনের একমাত্র যোগ্য প্রার্থী”—এমন বক্তব্যে উত্তাপ আরও বাড়ে।

দলীয় নেতাকর্মীরা এখন চরম দোটানায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল, সেবক দলসহ বিভিন্ন ইউনিট এখন এমন অবস্থার মুখোমুখি যেখানে কার পক্ষে দাঁড়াবে, সেটাই নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীকে সমর্থন করা দলীয় সিদ্ধান্ত, কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত নেতা সাজুকেও হঠাৎ অস্বীকার করা তাদের জন্য কঠিন। ফলে নেতাকর্মীদের অনেকেই বলছেন, “এ অবস্থা যেন শ্যামও রাখি, কুলও রাখি—সব দিকই বিপদে ফেলছে আমাদের।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন পরিস্থিতি উসকে দিচ্ছে অনিশ্চয়তা দিকে সামনে নির্বাচনি মাঠে বিএনপিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও বিভক্তি বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোটারদের মনোভাবেও।
একজন দলীয় দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হাইকমান্ড যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে
আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এরকম পরিস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়াতে পারে।” এখনও সময় আছে। দলীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত, কঠোর নির্দেশনা, কিংবা উভয় পক্ষের সমঝোতা—যে কোনো একটি পদক্ষেপই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে।
তবে এমন সংকট দীর্ঘায়িত হলে ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির নির্বাচনি কর্মকৌশল বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।






