ইটভাটার শ্রমিকদের আহাজারি যেন চারপাশের বাতাস ভারী করে তুলেছে।
চুল্লি বন্ধ—আগুন নিভে গেছে, কিন্তু নিভে গেছে তাদের ঘরের চুলোও।
গাবতলী–আমিনবাজার–সাভার–আরিচা সড়কে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকা এ শ্রমিকদের আন্দোলন শুধু একটি দাবি নয়—এটা বাঁচার আকুতি, সন্তানদের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার আর্তনাদ।
নিয়ে ১৯ নভেম্বর বুধবার ভোরের কুয়াশা ভেদ করে রাস্তায় দাঁড়ান ইটভাটার শ্রমিকে’রা।
গাবতলী আমিনবাজার থেকে সাভার–আরিচা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে আজ ভোর থেকেই এক অস্বাভাবিক দৃশ্য। ভাটা শ্রমিকদের প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা, রাস্তাজুড়ে থেমে থাকা গাড়ির দীর্ঘ সারি, আর যাত্রীদের বিরক্তি—সব মিলিয়ে যেন একটা স্থবির চিত্র।
ইটভাটা বন্ধের নির্দেশের পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন এসব ভাটার কয়েক হাজার শ্রমিক। তাদের কেউ কেউ তিন বছর, কেউ দশ বছর ধরে ভাটায় কাজ করছেন। প্রতিদিনের মজুরিতেই চলে তাদের সংসার।
ভাটা বন্ধ মানে আয় বন্ধ, আর আয় বন্ধ মানেই পরিবারে অনাহার-অসহায় পরিস্থিতি।
সমাজের নিকট শ্রমিক রহিম উদ্দিনের অসহায় কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন—ভাটা বন্ধ হলে আমরা যাব কোথায়।
শীত আসছে, কাজ নাই বাচ্চার দুধ, ঘরের ভাড়া—সব কীভাবে চলবে? সরকার যদি আমাদের না দেখে, আমরা কোথায় যাব?”
তার মতো আরও অনেকে একই প্রশ্ন তুলছেন।
শ্রমিকদের দাবি—ভাটা চালু রাখতে হবে, নইলে তাদের পরিবার রক্ষার কোনো উপায় থাকবে না।
ঠিক এই দাবিকে কেন্দ্র করেই আজ হঠাৎ সড়ক অবরোধে নেমে পড়েন তারা।
তাদের বিক্ষোভে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
অফিসগামী মানুষ, রোগী, শিক্ষার্থী—সবাই আটকে পড়ে চরম ভোগান্তিতে।
এক অফিসযাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন,একদিকে পরিবেশ রক্ষার কথা, অন্যদিকে মানুষের সমস্যা।
কিন্তু এমনভাবে রাস্তা বন্ধ করে দিলে তো আরেক বিপদ,রোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
মহাসড়কের দুই পাশে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার যানজট।
কেউ গাড়িতে, কেউ রোদে দাঁড়িয়ে,সময়টা যেন থমকে আছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন মাঠে নেমেছে।
মাঝেমধ্যে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। কিন্তু শ্রমিকদের সাফ কথা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এ যেন শুধু একটি সড়কের সংকট নয়—এটা দুই দিকের মানুষের দুই রকম বেদনার গল্প।
একদিকে শ্রমজীবী মানুষের রুটিরুজির লড়াই, অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীর ভোগান্তি দুই পক্ষের চাপ সামলে সবার জন্য কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই প্রশাসনের এখন
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।






