ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনস্থ ধলপুর শাখার জন্মনিবন্ধন কার্যক্রমে এখন কোনো ধরনের ঘুষ, দুর্নীতি বা হয়রানির অভিযোগ নেই। নাগরিকরা দ্রুততম সময়ে সহজ ও মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন—ফলে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে জন্মনিবন্ধন সেকশনসহ অন্যান্য সেবাখাতেও ধলপুর শাখা দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন এবং জনগণের সুবিধাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অফিস পরিদর্শনে দেখা গেছে, জন্মনিবন্ধনের আবেদন, সংশোধন ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব হওয়ায় নাগরিকদের হয়রানির সুযোগ নেই বললেই চলে।
একজন সেবাগ্রহীতা বলেন,
আগে জন্মনিবন্ধনের জন্য দালাল ধরতে হতো, এখন নিজেই গিয়ে সব কাজ করতে পারি। কেউ ঘুষ চায় না, সব কিছু নির্ধারিত নিয়মেই হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—সবকিছুই কমেছে।
ধলপুর শাখার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সহকারী আমানুল হক (অঞ্চল-৬) ও মোঃ ইমরান হোসেন সবুজ (অঞ্চল-৭) জানান, সেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নাগরিক যেন হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সেবা পায়, সেটিই এখন মূল লক্ষ্য।
শুধু জন্মনিবন্ধন নয়, বরং রাস্তা সংস্কার, মশা নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনসহ অন্যান্য খাতেও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটিয়েছে। ফলে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের নাগরিকদের মধ্যে আস্থা ও সন্তুষ্টি ক্রমেই বাড়ছে।
অঞ্চল-৬ ও ৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা উপ সচিব মোঃ সুজাউদ্দৌলা জানান, নাগরিক সেবা সহজ করতে ইতোমধ্যে ‘সাউথ সিটি সার্ভিস’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যেখানে জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স ও অভিযোগ দাখিল—সবকিছু অনলাইনে করা যায়।
এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ড অফিসে নাগরিক সহায়তা ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বয়স্ক, নারী ও প্রতিবন্ধীরা সহজে সেবা নিতে পারেন।
নাগরিকরা বলছেন,
“ধলপুর শাখার এই ইতিবাচক পরিবর্তন যেন স্থায়ী হয়। অন্যান্য সরকারি দপ্তরগুলোকেও এই শাখাকে অনুসরণ করা উচিত।”
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আগামীতে আরও কয়েকটি ডিজিটাল সেবা চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি টিম গঠন করা হচ্ছে, যাতে সেবা তদারকি আরও কার্যকর হয়।






