রাজধানীর মিরপুরে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আনুমানিক ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ধরা পড়া এক যুবককে ‘জিম্মায়’ নেওয়ার পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেন দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কামরুল।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মিরপুর ঈদগাহ মাঠ চার রাস্তার মোড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দৈনিক আমাদের সমাচার-এর প্রতিনিধি সজীব ভূইয়া জানান, একজন যুবক সিগন্যালের কাছে মটরসাইকেলে বসে গাঁজার প্যাকেট এক পকেট থেকে অন্য পকেটে সরানোর সময় তিনি তা লক্ষ্য করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কামরুল ইসলাকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পরবর্তীতে পুলিশ সদস্য কামরুলের উপস্থিতিতে যুবকের তল্লাশি চালানো হলে তার প্যান্টের পকেট থেকে আনুমানিক ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ওই যুবককে থানায় না নিয়ে কিছু সময়ের মধ্যেই ছেড়ে দেয়।
এক স্থানীয় বাসিন্দা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেন, “আমরা পুলিশের উপর ভরসা রেখেছিলাম। কিন্তু এমন আচরণে মনে হচ্ছে, ন্যায়ের জায়গায় এখন টাকার প্রভাবই বড়।”
এলাকাজুড়ে গুঞ্জন রয়েছে যে, যুবককে ছেড়ে দেয়ার পেছনে অর্থ লেনদেন বা প্রভাবশালী কারও তদবির থাকতে পারে। কিছু স্থানীয় এমনকি দাবি করছেন, এটি ঘুষের বিনিময়েই ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা মাদকবিরোধী সরকারের কঠোর অবস্থানের সময়ে জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা সংস্থার ভেতরে অনিয়মের এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা কেবল পুলিশের ভাবমূর্তি নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করবে।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, “যদি মাদকবিরোধী অভিযানের দায়িত্বে থাকা পুলিশই মাদক ব্যবসায়ীদের রক্ষা করে, নাগরিকরা নিরাপত্তা কোথায় খুঁজবে?”
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের ভাষায়, “একজন ট্রাফিক সার্জেন্টের কাজ শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নয়, নাগরিকের আস্থা ও নিরাপত্তা রক্ষা করাও তার নৈতিক দায়িত্ব।”
মিরপুরবাসীর এই ক্ষোভ ও উদ্বেগই সামনে রেখে প্রশাসনিক সজাগতা জরুরি হয়ে পড়েছে।






