জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ বহু শিক্ষার্থী সরকারি হাসপাতালের অবহেলায় চিকিৎসা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন। ঠিক এমন এক সংকটময় সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে পাশে দাঁড়িয়েছেন পাবনা শিমলা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মঞ্জুরা রহমান। সরকারি ব্যর্থতার বিরুদ্ধে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
আন্দোলনের সময় সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন হাজারো ছাত্রছাত্রী। কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোর অনেকেই প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তার অজুহাতে আহতদের ফিরিয়ে দেন বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় আহত পাবনার শিক্ষার্থীরা পড়ে যান চরম অসহায় অবস্থায়।

এই সময়েই এগিয়ে আসেন ডা. মঞ্জুরা রহমান। নিজ কর্মস্থল একটি বেসরকারি মেডিকেল হলেও, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আহত ছাত্রদের চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় বিভিন্নস্থান থেকে ফোন করা হয়, যাতে চিকিৎসা না করা হয় । তিনি নিষেধ মানেন নি।চিকিৎসার যাবতীয় খরচও বহন করেন নিজেই।
একজন আহত শিক্ষার্থী বলেন, “সেই মুহূর্তে কেউ আমাদের নিতে চাইছিল না। কিন্তু ম্যাডাম নিজে আমাদের দেখতে আসেন, ওষুধ দেন, চিকিৎসা শুরু করেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
ডা. মঞ্জুরা রহমান জানান, “একজন চিকিৎসকের প্রথম দায়িত্ব হলো জীবন রক্ষা করা। কে ছাত্র, কে রাজনীতি করে — সেটা নয়, মানুষ বিপদে আছে কিনা সেটাই মূল বিষয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. মঞ্জুরার এই সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, তিনি আজকের সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এদিকে, আন্দোলনের সময়কার চিকিৎসা সংকট নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ। একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে।






