রাজধানী

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে: আব্দুল হালিম

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় রুকনদের যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, আওয়ামী-বাকশালীরা কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নির্মূল ও জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য আল্লামা সাঈদীকে সর্বপ্রথম ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার স্থানীয় একটি অডিটোরিয়ামে উত্তরা পশ্চিম থানা জামায়াত আয়োজিত এক ষান্মাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

থানা আমির মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ফিরোজ আলমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহাগনরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন। একজন বিশ্বখ্যাত আলেম হিসেবে মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রেই তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। তিনি বারবার জাতীয় সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার খ্যাতি ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রয়ণন করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালার ফয়সালা ছিল ভিন্ন। ২০১২ সালে স্কাইপ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে সে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয় এবং স্বাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর অপহরণের স্বৈরাচারের নীল নকশা জাতির সামনে সুস্পট হয়ে ওঠে। তারপরও তাকে দীর্ঘ ১৫ বছর কারাভোগ করতে হয়। তার কারাগারে মৃত্যুর বিষয়টি এখনো রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবী নয় বরং একটি মানের নাম। আমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য জানমাল কুযরবানি করার প্রত্যয় নিয়েই শপথবদ্ধ হয়েছি। আর শপথের মূল কথা হলো, ‘আমার নামাজ, আমার কুরবানি, জীবন ও মৃত্যু সব কিছু আল্লাহর জন্য’। তাই আল্লাহর জমীন আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদেরকে ময়দানে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবে হবে।’

তিনি ফ্যাসিবাদে সরকারের আমলে জামায়াতের ওপর জুলুম-নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘১৮ বছরে ১১ শীর্ষনেতাকে শহিদ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমিরও রয়েছেন। এ সময় আমাদের মোট শহিদের সংখ্যা ৫০০-এর অধিক। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার। এদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। দু’ হাজার নারীসহ লাখের বেশি মানুষ কারাবরণ করেন। কিন্তু কোনোভাবেই জামায়াতের অগ্রযাত্রা রোধ করা যায়নি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর আমরা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। জুলাই ঘোষণায় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পুরোপুরি প্রতিফলন ঘটেনি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কেটে যায়নি। রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণহত্যার এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।’

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply