আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট। চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
জানা গেছে, সরকারি পর্যায়ে ১১২ জন এবং বেসরকারি পর্যায়ে এক হাজার ৭৪৩ জন গাইড দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে হজ পালন আরো নির্বিঘ্ন ও সহজ করতে চলতি বছর হজযাত্রীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘লাব্বাইক’ নামে মোবাইল অ্যাপ চালু হচ্ছে। একই সঙ্গে হজযাত্রীদের জন্য হজ প্রি-পেইড কার্ড চালু ও মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা দেওয়া হবে।
আজ সোমবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বাসভবন যমুনায় হজযাত্রীদের এসব সেবা উদ্বোধন করবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) মতিউল ইসলাম বলেন, পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশের হজযাত্রীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এ সমস্যা নিরসন ও হজের অভিজ্ঞতাকে আরো সহজ করতে ধর্ম মন্ত্রণালয় ‘লাব্বাইক’ অ্যাপ ও প্রিপেইড কার্ড চালু এবং রোমিং সুবিধা দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।
সোমবার বিকেল ৪টায় বাসভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা হজযাত্রীদের জন্য এ সেবাগুলো উদ্বোধন করবেন।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
এবার হজে বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। এবার পাঁচ হাজার ২০০ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকি ৮১ হাজার ৯০০ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।
মোবাইল অ্যাপ ‘লাব্বাইক’ : গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাচাইয়ের পর ৪ ডিজিটের পিন সেট করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় হজযাত্রীর মোবাইল নম্বর, পিআইডি (পিলগ্রিম আইডি) ও জন্ম তারিখ লাগবে। একজন হজযাত্রী তার পরিবারের সর্বোচ্চ তিনজন সদস্যকে ইনভাইটেশন পাঠিয়ে অ্যাপে যুক্ত করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ইনভাইটেশন পাঠালে ওই সদস্য তার মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার পর তারা হজযাত্রীর তথ্য জানতে পারবেন।
হজ প্রিপেইড কার্ড : ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, হজ প্রিপেইড কার্ড ইস্যু করতে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। কার্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর। এটি ক্যাশের পরিপূরক। তৎক্ষণাৎ কার্ড ইস্যু ও ডেলিভারি হবে। কার্ড ইস্যুতে কোনো চার্জ বা ফি নেই। লেনদেন প্রসেস ফি ৩ শতাংশের স্থলে ১ শতাংশ। হজ-পরবর্তী সময়েও এ কার্ড ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশি টাকা লোড করে ডলার বা সৌদি রিয়াল পাওয়া যাবে। প্রত্যেক হজযাত্রী এক হাজার ২০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা কার্ডে লোড করে নিতে পারবেন। সৌদি আরবে মাস্টার কার্ড লোগোযুক্ত এটিএম বুথ থেকে নগদ সৌদি রিয়াল উত্তোলন এবং পিওএস (পয়েন্ট অব সেলস) মেশিনে পেমেন্ট সুবিধা, কার্ডে ব্যালান্স রি-লোড এবং অব্যবহৃত ব্যালান্স রিফান্ড সুবিধা পাওয়া যাবে এ কার্ডের মাধ্যমে।
কার্ড ইস্যু ও ডলার এনডোর্সমেন্টের নিয়ম : ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা থেকে এ কার্ড পাওয়া যাবে। এ জন্য মূল পাসপোর্ট বা পাসপোর্টের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, দুই কপি ছবি, হজ ভিসার কপি, সচল মোবাইল নম্বর লাগবে। তথ্য জানার জন্য দেশ থেকে ১৬২৫৯ এবং ০২-৮৩৩১০৯০ কল সেন্টার, ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় যোগাযোগ করা যাবে। বিদেশ থেকে +৮৮০১৮৪৪২৪২৬৪৬, +৮৮০১৮১৩১৯৭৯১৫ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং +৮৮০৯৬১১০১৬২৫৯ কল সেন্টার নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।






