বগুড়ার নন্দীগ্রামে আগাম জাতের ইরি-বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে পাকা ধান। কেউ ধান কাটছে, কেউ বাঁধছে আঁটি। আর এর ফাঁকে কেউ গলা ছেড়ে গান গাইছে।
তারা গান গাইতে গাইতে দ্রুতগতিতে ধান কাটছে।
কৃষকের কাঁধে এখন ব্যস্ততা আর প্রত্যাশার ভার। তবে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হতে আরো ১০-১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
আগাম জাতের ধান সাধারণত ১২০-১৩০ দিনের মধ্যে পাকতে শুরু করে।অনেক কৃষকই দ্রুত বাজারে ধান তুলতে এবং ভালো দাম পেতে এই জাত বেছে নেন।
উপজেলার বেশির ভাগ জমিতে আগাম জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা মিনিকেট, ব্রি-ধান ৯০, বিনা-৭, বিনা-১৭ ও কাটারিভোগ আবাদ করেছেন। গড়ে বিঘাপ্রতি ধানের ফলন হচ্ছে ২০-২২ মণ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর নন্দীগ্রামে প্রায় ১৯ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে ইরি-বোর ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষাবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের ধান চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন।
নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের কৈডালা গ্রামের কৃষক ও সাবেক প্রধান শিক্ষক মোবারক আলী বলেন, ‘আমি ও আমার ভাই এ বছর ২৫ বিঘা জমিতে আগাম ধান লাগিয়েছি। এখনো পুরোপুরি ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়নি, কিন্তু আমি আগাম জাতের ধান চাষাবাদ করায় আগেই ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছি।
তিনি জানান, ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজারে দামও ভালো। অল্প কয়েক দিনের মধ্য প্রায় সবার জমির ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে আগাম ধানের দাম প্রতি মণ ১৩০০-১৩৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
কৃষকরা বলেন, আগাম বিক্রির সুযোগ থাকায় তারা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন। কাঁচা ঘামে ভেজা কৃষকের মুখে এখন শুধু একটাই কথা, ফসল ভালো হয়েছে। এবার দামটাও যেন ভালো থাকে। তবে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়া কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হঠাৎ করে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে তারা।
বুড়ইল ইউনিয়নের সিধইল গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে আকাশ মেঘলা এবং বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ধান কাটতে সমস্যা হচ্ছে। হঠাৎ আবহাওয়া বৈরী হওয়ায় আমরা দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’
দ্রুত ধান কাটার জন্য পরামর্শ দিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার গাজীউল হক বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা ধানের বাজারমূল্যও ভালো পাচ্ছেন। তবে চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটার সময়সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে।






