গত বছর এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পবিত্র উমরা পালন করতে সহায়তা করেন দুবাইয়ে বাস করা সৌদি নারী সোফিয়া সারাহ আদ্দাস। ওই উমরা পালনকারী শ্রমিকের আবেগ, মক্কায় তার নিরলস ইবাদতের প্রচেষ্টার বিষয়টি তার এতটাই ভালো লেগেছিল, এখন সাধারণ শ্রমিকদের উমরা করানোকে জীবনের মিশন হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
গত এক বছরে আরব আমিরাত থেকে ৭৫০ জনেরও বেশি শ্রমিককে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় উমরা করতে পাঠিয়েছেন তিনি। সম্পূর্ণ বিনাখরচে ৮ দিন সৌদি আরব থেকে পবিত্র উমরা পালন, মক্কা-মদিনার ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করেছেন তারা।

তবে সোফিয়া সারাহর পক্ষে এত মানুষকে একা উমরা করানো সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি Umrah4LaborWorkers ‘উমরা ফর লেবার ওয়ার্কার্স’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। যেখানে কমিউনিটির সদস্যরা শ্রমিকদের জন্য উমরা প্যাকেজ কিনতে পারেন। অর্থাৎ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল যে কেউ চাইলে তার মাধ্যমে শ্রমিকদের উমরা করাতে পারবেন।
প্রথমে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও এখন ‘উমরা ফর লেবার ওয়ার্কার্স’ একটি ট্যুরিজম কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির ওয়েটিং লিস্টে ৫ হাজারের বেশি শ্রমিক রয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো- যত সম্ভব শ্রমিককে বিনামূল্যে উমরা করতে পাঠানো। আমরা ইতিমধ্যে ৭৫০ জনকে পাঠিয়েছি। এ উদ্যোগটি গত বছরের রমজানে শুরু হয়েছিল। আমরা এ বছর আমাদের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করছি।

শ্রমিকদের এই উমরা প্যাকেজে ভিসা প্রসেসিং ফি, মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, যাওয়া আসার বাস ভাড়া, হোটেল খরচ (তিন রাত মক্কা ও দুই রাত মদিনায়), খাবার, কাপড় এবং অন্যান্য বিষয়গুলো থাকে। যারা শ্রমিকদের উমরা করাতে চান তারা চাইলে ব্যক্তিগতভাবেও শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
সৌদির এ নারী বলেন, ‘যখন কেউ প্যাকেজটি কেনেন আমরা শ্রমিকের বাস ছাড়ার তারিখ ও স্থানের বিষয়ে ইমেইল করে তাদের জানিয়ে দেই। যেন তারা এসে দেখতে পারেন তাদের অর্থে কারা উমরা করতে যাচ্ছেন।’
এ ছাড়া কেউ চাইলে নিজের পছন্দের শ্রমিককেও তাদের মাধ্যমে উমরাতে পাঠাতে পারেন। এ জন্য ওই শ্রমিকের বৈধ পাসপোর্ট, আমিরাতের আইডি কার্ড, নিয়োগদাতার নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
সোফিয়া জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে তারা নিজেদের সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানিকে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। যারা তাদের কর্মীদের জন্য উমরা প্যাকেজ কিনে তাদের স্বপ্নপূরণ করবেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্য হলো উমরাতে ১০ লাখ মানুষ পাঠানো।’






