রাজধানীর মোহাম্মদপুর সহ তেজগাঁওয়ের ছয় থানা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া আড়াই শতাধিক মোবাইল উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফিরিয়ে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাল তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান এ মোবাইল তুলে দেন।
এ সময় সাংবাদিকদের ডিসি বলেন, মোবাইল যেমন শখের জিনিস তেমনি ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। ছবি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য মোবাইলে থাকে। মোবাইল হারিয়ে গেলে আমরা বড় একটা সমস্যায় পড়ে যাই। এজন্য ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগে বিশেষ একটি টিম গঠন করা হয়। তেজগাঁও বিভাগের ছয় থানার দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে হারানো মোবাইল উদ্ধারে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের টিমটি থানা ভিত্তিক কাজ করে। মোবাইল উদ্ধারে বিভিন্ন ধরনের টেকনিক ব্যবহার করে মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আমরা কয়েক মাসে হারানো মোবাইলগুলোর মধ্যে আড়াই শতাধিক মোবাইল উদ্ধার করেছি।
এই কাজে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) গোলাম রাব্বানীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এই বিপুলসংখ্যক মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এর আগেও আমরা শতাধিক মোবাইল উদ্ধার করেছিলাম। আজকেও আমরা উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলো সঠিক মালিকদের কাছে তুলে দেব। তবে মোবাইলগুলো জিডির কারণে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই কেউ গ্রেফতার নেই।
ডিসি বলেন, আজকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলের দাম যদি ২০ হাজার করে ধরা হয় তাহলে অন্তত ৫০ লাখ টাকার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এই কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখব। মোবাইল হারিয়ে গেলে হতাশ না হয়ে থানায় জিডি করতে হবে। মোবাইল উদ্ধারে আমাদের টিম রয়েছে, তারা নিরলসভাবে কাজ করছে।
হারানোর চেয়ে ছিনতাইয়ের সংখ্যা বেশি। তাই মোবাইল ছিনতাই হওয়ার পরে উদ্ধার করছেন। ছিনতাই প্রতিরোধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ইবনে মিজান বলেন, আপনারা জানেন আগে তেজগাঁও এলাকায় ছিনতাই প্রবণতা ছিল। গত তিন মাসে আমরা আট শতাধিক ছিনতাইকারী গ্রেফতার করেছি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে বিভিন্ন থানায় টিম গঠন করা হয়েছে। যে সব এলাকায় ছিনতাইকারী বেশি ব্লক রেইড করে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীও ছিনতাই প্রতিরোধে মাঠে কাজ করছে। আর ছিনতাই হওয়া মোবাইলগুলো অপরাধীরা তাদের হাতে রাখে না। দ্বিতীয়, তৃতীয় হাতে চলে যায়। আমরা যাদের হাতে পাই তাদের সহযোগিতা পেলে আইনের আওতায় আনা হয় না। দুই মাসে ৩৭৫টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে।
এসি গোলাম রাব্বানী বলেন, মোবাইলগুলো শুধু ছিনতাই হয় তা না, অনেক সময় গাড়িতে উঠতে গিয়ে, বাসা থেকে মোবাইল হারিয়ে যায়। পকেট থেকে পড়ে যায়। এ জন্য আমরা জিডির ক্ষেত্রে আমরা মোবাইল উদ্ধার করেছি। অনেকগুলো কারণে মোবাইল হারায়।






