হত্যাসহ শতাধিক মামলায় তিনি এখন বিচারের মুখোমুখি। পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। এর আগেও তিনি ছয় বছর ভারতের মেহমান ছিলেন। কারণ অবশ্য ভিন্ন। ’৭৫ সনের পট পরিবর্তনের পর তাকে ভারতেই থাকতে হয়েছিল। এখন তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত। দেশে না থেকে ভারতে যাওয়ার দরকষাকষির ফলশ্রুতিতে তিনি এখন সেখানেই।
৪ঠা আগস্ট থেকে শুরু করে ৫ই আগস্ট দুপুর পর্যন্ত টানা দরকষাকষি চলে। ভারত সরকারকে বুঝাতে তিনি সক্ষম হয়েছিলেন বাংলাদেশে থাকা নিরাপদ নয়। অজিত দোভালের সঙ্গে তিনি কয়েকদফা ফোনে কথা বলেন। তাদের বোঝাতে সক্ষম হন পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যেকোনো সময় গণভবন ঘেরাও হতে পারে। সেনারা তার পক্ষে নেই। যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। তাই তারা যেন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে বিরামহীন আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় তাকে নিরাপদে চলে যেতে দেয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি দেশ ছাড়েন।
এরপর অনেক ঘটনাই ঘটে গেছে। বাংলাদেশে তার সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেছে। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে ৩২ নম্বর। অসংখ্য হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার দলের অস্তিত্ব থেকেও নেই। একটি লোকও নেই দলের পক্ষে কথা বলার। কোথায় যে এরা হারিয়ে গেল এ নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চলছে। তিনি আছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মাঝে মধ্যেই তিনি সরব হন। আত্মগোপনরত অনেক সহকর্মীর সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলেন। তাদের এই বলে আশ্বস্ত করেন, আমি দ্রুত আসছি। ভয় পেয়ো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। শুরুর দিকে এসব কথাবার্তা অনেকেই আমলে নিতেন। উৎসাহিত বোধ করতেন। এখন জোয়ার-ভাটার মতো। সকাল-বিকাল মনোবল চাঙ্গা হচ্ছে। অনেকে আবার ক্যাম্প পরিবর্তন করছেন। পরিচয় গোপন করে অনেকেই জাতীয়তাবাদী অথবা জামাতি হয়ে যাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদিকে ড. ইউনূস সরাসরি বলেছেন, শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলছেন তা রীতিমতো উস্কানিমূলক, নানা ষড়যন্ত্রের আলামত। তাকে সতর্ক থাকার তাগিদও দেয়া হয় কূটনৈতিক চ্যানেলে।






