শাকিল আহমেদ স্বপন অরুপে বস্তি স্বপন। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কল্যাণপুরবাসীর কাছে আতংকের নাম এই বস্তি স্বপন। গেল ৫ আগস্টের পর থেকে কল্যাণপুরের বস্তি দখল, পরিবহন কাউন্টারে নিয়মিত চাঁদা আদায়, বস্তির মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের গডফাদার হয়ে উঠেছে স্বপন।
অভিযোগ রয়েছে, কল্যাণপুর বস্তির প্রতি ঘর থেকে মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা চাঁদাবাবদ নেন তিনি। এছাড়াও কেউ নতুন ঘর তুলেতে গেলেও মোটা অংকের টাকা দিতে হয় স্বপনকে।শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার মাদক ব্যবসার দায়িত্বও নিয়েছে এই বিএনপি নেতা স্বপন। সূত্র বলছে মাসে কয়েক লাখ টাকার মাদক কেনা-বেচা হয় এই বস্তিতে। যার পুরো টাকাটা চলে যায় স্বপনের হাতে।শুধু তাই নয় কল্যাণপুরের ট্রাক- পিকআপ স্টান্ড, প্রতিটি বাস কাউন্টার থেকেও প্রতিদিন চাঁদা তুলেন বিএনপি নেতা স্বপন। আর এসব চাঁদাবাজি আর মাদক ব্যবসা থেকে ঢাকা উত্তর বিএনপির এক নেতাও নিয়মিত ভাগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট পালিয়ে গেলেও স্বৈরাচারী দলের নেতাকর্মীরা এখনও হত্যা মামলার আসামি হলেও খোলা মেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর তাদের রক্ষার দায়িত্ব যেন নিয়েছেন মিরপুরের ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ স্বপন। নিজে বিএনপি নেতা হলেও আপন ছোট ভাই ফয়সাল আদনান ১১ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক,বড় ভাই রিপন হোসেন আওয়ামী লীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ চন্দ্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, আরেক ছোট ভাই খোকা মিয়া ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি। এছাড়াও বিএনপি নেতা স্বপনের আপন মামা মাইনুদ্দিন হাওলাদার মিরপুর থানা আওয়ামী লীগ নেতা ও থানা মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি পদে রয়েছে। যারা সকলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতা হত্যা মামলাার আসামি।
অভিযোগ রয়েছে, গত মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুরের কল্যাণপুর নতুনবাজার এলাকায় মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি মাইনুদ্দিন হাওলাদার ওরফে ‘পিয়াজ মাইনুদ্দিন’ কে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির এই শাকিল আহমেদ স্বপন। অথচ এই মাইনুদ্দিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট দায়ের করা একটি ছাত্রহত্যা মামলায় তিনি ২৩ নম্বর আসামি।
সেই ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই দিন পুলিশ মাইনুদ্দিনের অবস্থানের খবর পেয়ে কল্যাণপুর নতুনবাজার এলাকায় অভিযান চালায় এবং তাকে আটক করে গাড়িতে তোলে। এ সময় মিরপুর ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি শাকিল আহমেদ স্বপন দলবল নিয়ে উপস্থিত হন এবং পুলিশকে মাইনুদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে পুলিশি হেফাজত থেকে মাইনুদ্দিনকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও এবং স্থিরচিত্র সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে, যেখানে দেখা যায়, পুলিশের গাড়িতে থাকা অবস্থায় মাইনুদ্দিনকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন বিএনপি নেতা স্বপন ও তার লোকজন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছোট ভাই, মামারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ স্বপন বলেন, পরিবারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই।তবে আমি মাদক ব্যবসা,চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। পুলিশের গাড়ি থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি শুধু ওখানে গিয়েছলাম।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দুলু বলেন, বিএনপি নেতা স্বপনের বিষয়ে এর আগেও অনেক অভিযোগ এসেছিল। বিষয়টি এবার গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের গাড়ি থেকে হত্যা মামলার আসামি ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে ওসি স্যারকে বলেন আমি কিছু এখন বলতে পারবো না।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী রেজওয়ান উল হোসেন রিয়াজ বলেন, বিষয় গুলো শুনেছি। ইতিমধ্যে ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল ও সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ স্বপনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শোকজ করা হয়েছে।






