মালিকদের ‘সদিচ্ছার’ অভাবে গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা
রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা ‘বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি’ চালুর উদ্যোগ বেশ পুরোনো। কয়েক দফায় এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই ভেস্তে যায় তা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশিরভাগ বাস মালিকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গত ১৫ বছর তারা পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করেছেন। মূলত তাদের সদিচ্ছার অভাবেই ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা ‘বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি’র মতো উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। তারা বলছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের সময় বাস রুট রেশনালাইজেশনের মতো উদ্যোগের সফলতা নিয়ে তারা আশাবাদী।
- জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার জন্য ২০ বছর মেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনায় ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা ‘বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি’ চালু করতে ২০০৪ সালে পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ঢাকার বাসগুলোকে একটি কোম্পানির আওতায় নিতে প্রথম চিন্তা করা হয় ২০১৬ সালে। সেই পরিকল্পনামাফিক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক সমগ্র ঢাকাকে ৫টি রুটে ভাগ করে ৫ রঙের বাস চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়নের আগেই ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যু হলে স্থগিত হয় সেই পরিকল্পনা। পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে ২০১৮ সালের নভেম্বরে সভাপতি করে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ কমিটি করা হয়। এরপর ২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০টি বাস নিয়ে ৩টি রুটে চালু হয় ‘ঢাকা নগর পরিবহন’। কিন্তু পরিবহন মালিকদের রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য ও অবৈধ বাসের প্রভাবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয় এবং গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।






