ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন ও বিভিন্ন স্থাপনা, জলাশয় ও জমি ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অবৈধ ড্রেজিং কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ পাইপ ও দুটি ড্রেজার মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। এ সময় রমজান মিয়া (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ, ভাটামাথা ও তন্তর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে রমজান মিয়া, পিতা—মৃত আব্দুল লতিফকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের দায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ ড্রেজিং কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৮ হাজার ফুট পাইপ ও দুটি ড্রেজার মেশিন বিনষ্ট করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে ফসলি জমি, সরকারি জলাশয়, খাসজমি ও পুকুর ভরাটের ঘটনা ঘটছে। এতে একদিকে কৃষিজমি ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার পরিবেশ ও স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে বনগজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে মাটি উত্তোলন করে একটি খেলার মাঠ ভরাটের কাজ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জায়গা এমনিতেই সীমিত। এর মধ্যে খেলার মাঠ ভরাটের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও একই এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজিং করে মাটি উত্তোলন ও জলাশয় ভরাটের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযান পরিচালনার পরও পুনরায় সেখানে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পরবর্তীতে আবারও একই এলাকায় ড্রেজারের মাধ্যমে খেলার মাঠ ভরাটের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অবহিত করা হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। এ সময় রমজান মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অবৈধ ড্রেজিংয়ের সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়।
অন্যদিকে, ভাটামাথা এলাকাতেও অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সরকারি খাল ভরাটের অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে কৃষিজমি, খাল-বিল ও জলাশয় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তারা অবৈধ ড্রেজিং ও ভূমি ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাটের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও ভরাটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ও ধারাবাহিক নজরদারি জরুরি।






