সারাদেশ

কসবা উপজেলায় খাল থেকে মানব বর্জ্য অপসারণের নামে চাঁদাবাজি ৬ লক্ষ টাকা

মোহাম্মদ মোস্তফা ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের ওদের খাল নামক কাল থেকে অবৈধ দখলদারদের বর্জ্য অপসারণের জন্য ৬ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে চার গাছ বাজার কমিটি ও মূল গ্রাম ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায় গত ১২ই আগস্ট ২০২৬ স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ওদের খাল নামক খালটির পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল ইসলাম। অধিকাংশ খাল অবৈধভাবে দখল করেছে ভূমিদস্যরা এবং খালের অধিকাংশ জায়গায় ভূমিদস্যরা নির্মাণ করেছেনদোকানপাট এতে করে বর্তমানে খালটি স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সাধারণ ভাবে খালের পানি পানি প্রবাহ বন্ধ রয়েছে এই খাল টি।

এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল ইসলাম খালটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন পরিদর্শন কালে তিনি খালটিতে জলাবদ্ধতার বাস্তব চিত্র দেখতে পান একে তো অবৈধ দখলদারেরা খালের অধিকাংশ জায়গা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন অন্যদিকে মানব বর্জ্য ফেলে কালটিকে একেবারেই পানি নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে। এতে করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয় তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই খালের মানব বর্জ্য অপসারণের জন্য মূলগ্রাম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে নির্দেশনা দেন। ঘটনার শুরু সেখান থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশকে পুঁজি করে চার গাছ বাজার কমিটি এবং মূল গ্রাম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চাঁদা উঠানো আরম্ভ করে দেন সেখানে খালের উপর অবৈধ ভাবে দখলকৃত প্রায় এক থেকে দেড়শত দোকান রয়েছে এই দোকান এই সব দোকান থেকে প্রতি দোকানের বিপরীতে তিন থেকে চার হাজার টাকা চাঁদা উঠানো হয়। সেখানে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হয় এমনটি অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনগণ এবং চারগাছ বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা। ৭ই সেপ্টেম্বর সোমবার প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করলে এই চাঁদাবাজির সত্যতা মিলে উক্ত বাজারে ব্যবসায়ীরা চেয়ারম্যানের সামনেই চাঁদা আদায়ের কথা অকপটে বলে দেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে চেয়ারম্যান কোন সদ উত্তর দিতে পারেননি চাঁদা উঠানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কসবা মানব বর্জ্য অপসারণ এর নির্দেশনা দিলে বাজার কমিটি চাঁদা আদায় করে ঘটনাটা সত্যতা তিনি স্বীকার করেন। মূলগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অজান্তে বাজার কমিটি কিভাবে এই ধরনের চাঁদাবাজি করতে পারে জানতে চাইলে তিনি কোন সদ উত্তর দিতে পারেননি তিনি বলেন বাজার কমিটি চাঁদা উঠিয়েছে খাল থেকে মানব বর্জ্য অপসারণের জন্য এমনটি তিনি অকপটে স্বীকার করেন। সরজমিনে গিয়ে ফুটেজ নিলে দেখা যায় ১২আগস্ট ও ৭ই সেপ্টেম্বরের ভিডিও ফুটেজ বর্জনেরচনা করলে দেখা যায় এবং প্রতিয়মান হয় যে সেখান থেকে কোন বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি। এখানেও রয়েছে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ চাঁদা আদায় করে মানবজ্য কেন অপসারণ করা হলো না এই প্রশ্নেরও কোন সদর উত্তর দিতে পারেননি মূলগ্রাম ইউনিয়নের বারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে তিনিও কোন রেসপন্স করেননি সব মিলিয়ে এখানে একটি হ-য-বড় হল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যেখানে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল এই যদি হয় বাস্তব চিত্র তাহলে একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিভাবে পুরো উপজেলাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন এটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সুশীল সমাজে। কারণ শুধু একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৎ হলেই কাজের স্বচ্ছতা ফিরে আসবে না এজন্য প্রয়োজন সকল শ্রেণী পেশার মানুষ জনপ্রতিনিতি স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। তা না হলে আদৌ জলাবদ্ধতা ভূমিদস্যুতা খাল দখল কোন কিছুই নিয়ন্ত্রণ করা একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্বারা সম্ভব নয় এমনটি বলছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply