শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমনকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ
আজ ৩০ জুলাই। আমাদের গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য এক গভীর বেদনার দিন। ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের এই দিনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গাজীপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র দেশের সংবাদমাধ্যম অঙ্গনের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। সেদিন যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল অসংখ্য সংবাদকর্মীর কলম, ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল অগণিত মানুষের হৃদয়।
সাইদুর রহমান রিমন ছিলেন না শুধু একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক; তিনি ছিলেন আমারসহ অসংখ্য সংবাদকর্মীর গণমাধ্যমের শিক্ষাগুরু, অভিভাবক, সাহসের প্রতীক এবং পথচলার অনুপ্রেরণা। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের হাতে-কলমে গড়ে তুলতে তাঁর অবদান ছিল অনন্য। তাঁর স্নেহ, দিকনির্দেশনা, পেশাগত শৃঙ্খলা এবং মানবিক মূল্যবোধ আমাদের সাংবাদিকতা জীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—‘অন্যায়, দুর্নীতি ও অপরাধের কাছে কখনো মাথা নত করো না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীকভাবে দাঁড়াও, মানুষের অধিকার রক্ষায় কলম চালিয়ে যাও। একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সততা, সাহস ও বিবেক।’ আজও তাঁর সেই কথাগুলো আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস জোগায়।
আজ স্মৃতির পাতা উল্টাতে গিয়ে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। বারবার মনে হয়, যদি আর একবার তাঁর স্নেহভরা কণ্ঠ শুনতে পেতাম, যদি আর একবার তাঁর কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নিতে পারতাম! কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো—আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। তবুও তাঁর শিক্ষা, আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা এবং সাহসী সাংবাদিকতার চেতনা আমাদের হৃদয়ে আজও জীবন্ত।
কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও কখনো হারিয়ে যান না। তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের আদর্শে, কর্মে এবং তাঁদের হাতে গড়ে ওঠা মানুষের সাফল্যে। সাইদুর রহমান রিমন তেমনই একজন মানুষ। তিনি আমারসহ অসংখ্য সংবাদকর্মীর কলমে, বিবেকে এবং সত্যের পক্ষে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি আমাদের প্রিয় শিক্ষাগুরুকে। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বিনীত প্রার্থনা, তিনি যেন মরহুম সাইদুর রহমান রিমন-কে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন, তাঁর কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করেন, তাঁর সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে তাঁর অসীম রহমতের ছায়ায় স্থান দেন। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, সহকর্মী এবং আমারসহ তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থীকে এই শোক বহন করার শক্তি দান করুন।
শিক্ষাগুরু, আপনি আমাদের চোখের আড়ালে চলে গেছেন, কিন্তু হৃদয় থেকে কখনো দূরে যাননি। আমরা যখনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরি, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াই, তখনই আপনার শিক্ষা, আপনার সাহস আর আপনার আদর্শ আমাদের পথ দেখায়। আপনার মতো মানুষ কখনো হারিয়ে যান না—তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের আদর্শে, তাঁদের কর্মে এবং তাঁদের রেখে যাওয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে।
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।
গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলিতে—
জে এফ শাহীন
বিশেষ প্রতিনিধি
দৈনিক আমাদের সমাচার অনলাইন মাল্টিমিডিয়া
“সত্য প্রকাশে নির্ভীক”






