ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টায় পরিচালিত এ অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত ফিজিশিয়ান স্যাম্পল মজুত রাখার অভিযোগে মোট ৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪২ হাজার (বিয়াল্লিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম।
অভিযানে পুরাতন বাজার এলাকার ৬টি হোটেলে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া একটি বেকারিতে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ এবং একটি ওষুধের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত ফিজিশিয়ান স্যাম্পল মজুত রাখার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯-এর প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী ৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, “জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বা ওষুধ সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেললে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
নিরাপদ খাদ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা প্রতিটি ব্যবসায়ীর আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। সামান্য অবহেলাও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী খাদ্যে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন বা বিক্রয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য সংরক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি বা সংরক্ষণ, ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একইভাবে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ বা বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা এবং চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত ফিজিশিয়ান স্যাম্পল অনিয়মভাবে মজুত বা বিক্রি করাও দণ্ডনীয় অপরাধ।
পুরাতন বাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি অনেকাংশে কমে আসবে। বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।”
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন অভিযান জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু একদিনের অভিযান নয়, নিয়মিত তদারকি ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তা প্রতারণার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।






