রাজধানীর মিরপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের লালকুঠি তৃতীয় কলোনি এলাকায় নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের লক্ষ্যে রাস্তা সংস্কার ও পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। তবে এই উন্নয়ন কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সড়কে খনন ও পাইপলাইন স্থাপনের সময় অনেক বাড়ির পানির সংযোগ লাইন, বৈদ্যুতিক তারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়কে ধুলাবালি ও কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিশু, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। অনেক এলাকায় কাজ শেষ হলেও রাস্তা দ্রুত সংস্কার না করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা তারা অস্বীকার করেন না, তবে পরিকল্পনার অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে জনদুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পানির লাইন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় তারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
লালকুঠি তৃতীয় কলোনির একাধিক বাসিন্দা বলেন, “উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই উন্নয়নের কারণে আমাদের দৈনন্দিন জীবন যেন স্থবির হয়ে না পড়ে। দ্রুত কাজ শেষ করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।”
এ বিষয়ে সমাজ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, একাধিক সেবা খাতে একসঙ্গে কাজ চলায় যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
একজন সমাজ বিশ্লেষক বলেন, “উন্নয়ন তখনই সফল হয় যখন মানুষের দৈনন্দিন জীবন সচল থাকে। তাই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।”
সব মিলিয়ে লালকুঠি তৃতীয় কলোনির এই পরিস্থিতি নাগরিক উন্নয়নের বাস্তব চিত্রকে সামনে এনেছে। একদিকে উন্নয়ন কাজ চললেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।






