সারাদেশ

সাভারে পুলিশের ওপর হামলার জেরে অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

ঢাকার সাভারে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পর ব্যাপক অভিযান চালিয়ে হত্যা, মাদক, চুরি, হত্যাচেষ্টা এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্তসহ মোট ২৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে বক্তারপুর বালুর মাঠ এলাকায় অভিযান চলাকালে পুলিশ তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তিনি সহযোগীদের ডেকে জড়ো করেন। একপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পুলিশের পরিচয় দেওয়া ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সত্ত্বেও রফিকুল ইসলাম ইট দিয়ে এসআই এস এম শামীমের মুখে আঘাত করেন। এতে তিনি মুখ ও ঠোঁটে গুরুতর আহত হন। এএসআই মশিউর রহমানও লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। পরে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা মামলার এজাহারভুক্ত ৫ জনসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি একটি হত্যা মামলার আসামি, মাদক, চুরি, হত্যাচেষ্টা এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরাও রয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সাভার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা সহ্য করা হবে না এবং অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত কার্যক্রম চলমান থাকবে।

অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হলেও অনেকেই পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এলাকায় মাদক ও অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের ওপর হামলা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে তারা সমন্বিত গোয়েন্দা নজরদারি ও সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অপরাধ দমনের পাশাপাশি গ্রেপ্তার ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।

সব মিলিয়ে সাভারের এ ঘটনায় একদিকে যেমন পুলিশের ওপর হামলার মতো গুরুতর অপরাধ সামনে এসেছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও ব্যাপক অভিযান অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply