রাজধানী

দৈনিক আমাদের সমাচার অনলাইন মাল্টিমিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর দারুস সালাম থানার তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ঘুষের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা; অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজন এখনও বহাল

রাজধানীর দারুস সালাম থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশের পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে দারুস সালাম থানায় কর্মরত তিন পুলিশ সদস্যকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে রাজাবাগ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জুন দিবাগত রাতে টহল ডিউটির সময় কেরু কোম্পানির দুই বোতল হুইস্কিসহ নিউমার্কেট এলাকার গ্র্যান্ড গ্যালাক্সি বারের দুই কর্মচারী রাসেল ও কিরণকে আটক করা হয়। পরে কর্তব্যরত এসআই শরিফুল ইসলাম, এএসআই হাবিবুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সদস্যরা মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকেই ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।


এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য এক সাংবাদিককে আর্থিকভাবে প্রভাবিত ও ম্যানেজ করার চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপিত হয়। অভিযোগগুলো প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
দৈনিক আমাদের সমাচার অনলাইন মাল্টিমিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর ডিএমপির মিরপুর বিভাগের কার্যালয় থেকে গত ৬ জুন জারি করা অফিস আদেশে এসআই (নিঃ) মো. শরিফুল ইসলাম (বিপি-৮৯০৮১২১৮৬৬), এএসআই (নিঃ) মো. হাবিবুর রহমান (বিপি-৮৬০৫১০৭৮৫৫) এবং কনস্টেবল মো. আশিকুজ্জামান খন্দকার (বিপি-৭৯০১০১৮৬৬১)-কে দারুস সালাম থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজাবাগ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঘটনাটির সঙ্গে মোট ছয়জন পুলিশ সদস্য জড়িত ছিলেন। অথচ প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত আনা হয়েছে মাত্র তিনজনকে। অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও বাকি তিনজন এখনও স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগে নাম আসা সকল সদস্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি উঠেছে।


আইন ও প্রশাসনিক বিধান অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধে সহায়তা প্রদান, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা আটক ব্যক্তিকে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি আইনের আওতায়ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত, চাকরিচ্যুতি, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা কারাদণ্ডের মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই অভিযোগের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে মাত্র তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাকি সদস্যদের বহাল রাখা হলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমানভাবে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল এর সঙ্গে সশরীরে থানায় গিয়ে এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত সকল সদস্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাকি তিনজনের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply