ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভুয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং সংঘবদ্ধ জাল নোট চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৪।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগানকে ধারণ করে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও সংঘবদ্ধ প্রতারণা দমনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া সার্টিফিকেট ও আর্থিক প্রতারণা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার এবং জাল নোট চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে।
গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানাধীন নাজিরাবাদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান ও অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. রাসেল আহমেদ (৩৮)–কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার নথি অনুযায়ী জানা যায়, তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক সংগঠনে কর্মরত থাকাকালে ডেটাবেইজের অপব্যবহার, সদস্যপদ নবায়নে অনিয়ম, ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাধ্যমে শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৮৬ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করে এবং মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করে। র্যাব জানায়, তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অন্যদিকে, একই ধারাবাহিক অভিযানে র্যাব-৪ পৃথক অভিযানে জাল নোট চক্রের সক্রিয় সদস্যদের আটক করে। ১৩ মে ২০২৬ তারিখ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপনগর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. বেলাল হোসেন (৩৮)–কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আশুলিয়ার বিরুলিয়া খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজ আহমেদ (৩৭) ও দ্বীপ্ত মণ্ডল তন্ময় (৩০)–কে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে সর্বমোট ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৯ শত টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয় বলে র্যাব নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট তৈরি ও বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও জাল নোট চক্র অর্থনীতি ও জনআস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।
অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধ দমন অভিযান প্রশংসনীয় হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানান তারা।
র্যাব-৪ এর এসব সফল অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও প্রতারণা চক্র আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে।






