অন্তজেলা বাস টার্মিনালে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি বন্ধ ও জড়িতদের শাস্তির দাবি; জনদুর্ভোগ চরমে
রাজধানীর গাবতলী অন্তজেলা বাস টার্মিনালে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন মোটর শ্রমিকরা। ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন পরিবহনের শতাধিক শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি টার্মিনাল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে এবং পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এবং ঢাকা বাস-ট্রাক ওনার্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল পারভেজ। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গাবতলী টার্মিনালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ট্রিপ, পার্কিং, সিরিয়াল ও বিভিন্ন তহবিলের নামে শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে।
সমাবেশে বক্তারা পরিবহন সেক্টরের প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্বাস উদ্দিন ও তার সহযোগীদের (গং) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলসহ বিভিন্ন খাতে আদায় করা অর্থের স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয়নি, যার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন,
“চাঁদা না দিলে আমাদের গাড়ি টার্মিনালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। প্রতিদিনই বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দিতে হয়। এছাড়া কল্যাণ তহবিলের নামে যে টাকা নেওয়া হয়, তার কোনো হিসাব আমরা পাই না।”
চাঁদাবাজির এই প্রভাব শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ফলে সাধারণ যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করছে। পাশাপাশি টার্মিনালে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
একজন যাত্রী জানান,
“গাবতলী টার্মিনালে এলেই একটা অস্বস্তি কাজ করে। ভাড়া বেশি নেওয়া হয় এবং নানা ধরনের অনিয়ম চোখে পড়ে। চাঁদাবাজি বন্ধ হলে যাত্রীদের যাতায়াত অনেক স্বস্তিদায়ক হবে।”
সমাবেশে গোলাম রসুল পারভেজ বলেন,
“গাবতলী টার্মিনালে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র শ্রমিকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। আমরা অবিলম্বে এই চাঁদাবাজি বন্ধ এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। জনাব তারেক রহমানও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তারপরও কিছু অসাধু চক্র এসব নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
দারুস সালাম থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“গাবতলী টার্মিনালে চাঁদাবাজির অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদাবাজি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে একটি গুরুতর অপরাধ। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৮৪ ধারা অনুযায়ী জোরপূর্বক অর্থ আদায় করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় ভয়ভীতি প্রদর্শন বা গুরুতর হুমকির মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।






