শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম
বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন’সহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের আদেশে
ফরহাদ দম্পতি ও এনবিআর কর্মকর্তার বিদেশযাত্রা বন্ধ
রাজধানীর মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনসহ তিনজনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা খাতুন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু আপাতত দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অভিযুক্তরা বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি তার নামে থাকা সন্দেহজনক সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন—এমন তথ্য পাওয়ায় তার ক্ষেত্রেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।
এ ঘটনায় মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। তারা আশা করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা পাবে।
প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের সুযোগ কমবে।
এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মতামত, দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেন কারও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে।






