রাজধানী

বদলি ইস্যুতে উত্তাল বিআইডব্লিউটিসি: সিবিএ–কর্মকর্তা সংঘাতে থমথমে প্রধান কার্যালয়

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এ এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলিকে কেন্দ্র করে প্রধান কার্যালয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাটুরিয়া ঘাটের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রুবেলুজ্জামানকে ডক-২-এ বদলির দাবিতে চেয়ারম্যানের দপ্তরে জড়ো হন সিবিএ নেতাকর্মীরা।

সিবিএ নেতারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে সংস্থার কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। জনস্বার্থে এবং ফেরিঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে তাকে দ্রুত ডক-২-এ বদলি করার দাবি জানান তারা।

এদিকে বদলির দাবির খবর ছড়িয়ে পড়লে সংস্থার সিপিও মানসুরা আহমেদের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী চেয়ারম্যানের দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন। তারা এ উদ্যোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের দপ্তর এলাকায় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতির পেছনে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আসন্ন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়। রুবেলুজ্জামান ওই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর নির্বাচন আয়োজনের কথা রয়েছে। কর্মকর্তাদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতেই তাকে কৌশলগতভাবে বদলির চেষ্টা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে রমজান ও ঈদ সামনে রেখে যাত্রীচাপ বাড়ছে। এই সময়ে হঠাৎ বদলি হলে ঘাট ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
তবে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মকর্তা বদলি বা পদায়ন নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। এক কর্মকর্তা বলেন,
“সংস্থার স্বার্থ, দাপ্তরিক প্রয়োজন ও কাজের চাপ বিবেচনায় রেখেই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আসন্ন রমজান, ঈদুল ফিতরের অতিরিক্ত যাত্রীচাপ এবং দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

এ ঘটনার পর থেকে বিআইডব্লিউটিসির প্রধান কার্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না এলে ভবিষ্যতে কর্মসূচি আরও কঠোর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট মহল পরিস্থিতি শান্ত রাখতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও সমঝোতার প্রত্যাশা করছে।

Leave a Reply