জাতীয়

হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সাংবাদিকতা

অলিগলি ভরছে অনলাইন পোর্টাল–ইউটিউব চ্যানেলের স্রোতে দেশের সাংবাদিকতা পেশা এক কঠিন পরিবর্তনের মুখোমুখি। অলিতে–গলিতে গজিয়ে উঠছে অসংখ্য অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুকভিত্তিক নিউজ পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও ব্যক্তিগত ভ্লগ। প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় সংবাদমাধ্যমের পরিসর যেমন বেড়েছে, তেমনি কমে যাচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতার মান—যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পাঠক, গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের মাঝে।

গত এক দশকে দেশে নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাথে যুক্ত হয়েছে হাজারো অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্ম। এসব প্ল্যাটফর্মের অনেকেই সংবাদ পরিবেশনের ন্যূনতম নীতিমালা, যাচাই বা দায়বদ্ধতার ধার ধারে না। অনেকে সংবাদ সংগ্রহের নামে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় পুরো সাংবাদিকতা পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক সাংবাদিকতা—অর্থাৎ মাঠে নেমে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, অনুসন্ধান এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন—এই পুরো প্রক্রিয়া এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।” কারণ, দ্রুত ভিউ পাওয়া, শিরোনামে চমক তৈরি করা এবং সামাজিক মাধ্যমে সাড়া জাগানোর প্রতিযোগিতায় অনেকেই সত্য ও তথ্যের চেয়ে গতি ও উত্তেজনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, পেশাদার সাংবাদিকদের আয় কমে যাওয়া, সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন সংকট, মিডিয়া হাউসের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের চাকরি অনিশ্চয়তার কারণে মানসম্মত সাংবাদিকতার ভবিষ্যত আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকতার পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাব যাচাইকৃত তথ্যের পরিবর্তে কপি–পেস্ট সাংবাদিকতার বিস্তার ইউটিউব ও ফেসবুকনির্ভর সেন্সেশনাল কনটেন্টের জনপ্রিয়তা এবং মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে নীতিমালার দুর্বলতা এই সবকিছু মিলিয়ে প্রাকৃতিক বা ক্লাসিক্যাল সাংবাদিকতা হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

তবে আশার কথা হলো—মাঠ পর্যায়ে এখনও কিছু তরুণ সাংবাদিক অনুসন্ধানী, তথ্যভিত্তিক ও নৈতিক সাংবাদিকতার ধারা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পেশাগত প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, মিডিয়া নীতিমালা কঠোর করা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন আবারও সম্ভব।

Leave a Reply