আন্তর্জাতিক

মেলানিয়া ট্রাম্পের মূর্তি চুরি, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের স্লোভেনিয়ায় মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছে। এর আগে মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রথম ভাস্কর্যটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একই স্থানে ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল। এখন সেটিও উধাও হয়ে গেছে।

২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্লোভেনিয়ার মধ্যাঞ্চলের সেভনিকার কাছে এই ভাস্কর্যটি উন্মোচন করা হয়েছিল।

এই শহরে মেলানিজা নাভস ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভাস্কর্যটি মেলানিয়ার জন্মস্থান সেভনিকায় ছিল। 

স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র অ্যালেনকা ড্রেনিক রাঙ্গুস বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ১৩ মে ভাস্কর্যটি চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছে। এখন তদন্ত চলছে।

ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যটির নির্মাতা মার্কিন শিল্পী ব্র্যাড ডাউনি জানিয়েছেন, ভাস্কর্যটি পায়ের গোড়ালির নিচ থেকে কেটে চুরি করা হয়েছে। তিনি তখন জার্মানিতে একটি নতুন শিল্প প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলেন এবং সেখানেই এই খবর পান।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে ডাউনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন প্রচারণার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত, তবে নিশ্চিত বলা যায় না।’ তিনি জানান, আগের কাঠের ভাস্কর্যটি যখন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনিই নিজ উদ্যোগে তার স্থলে ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য বসানোর সিদ্ধান্ত নেন।

প্রথম ভাস্কর্যটি ছিল কাঠের, যেখানে মেলানিয়াকে নীল পোশাক ও হিল পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল। সেটি স্থানীয় শিল্পী আলেস জুপেভক একটি গাছের গুঁড়ি খোদাই করে বানিয়েছিলেন। তবে ২০১৯ সালে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সেটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে তা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এর পর ২০২০ সালে ট্রাম্প যখন তার প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে পুনর্নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যটি সেভনিকার কাছে একটি ব্যক্তিগত জমিতে বসানো হয়। ভাস্কর্যটির ভারসাম্য রক্ষা করতে এর ভিত্তিতে কংক্রিট ও ধাতব রড ব্যবহার করা হয়েছিল।

কিন্তু এবারও সেটিকে গোড়ালি থেকে কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

সেভনিকার একটি বেকারিতে কাজ করেন ফ্রাঞ্জা ক্রাঞ্জক। তিনি বলেছেন,  ‘চুরি হওয়া মূর্তিটি ফিরিয়ে আনা খুব গুরুত্বপূর্ণ না। কারণ, আমার মনে হয় এই মূর্তিটি নিয়ে কেউ সত্যিই গর্বিতবোধ করছিল না, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্ষ্ট লেডিও না। তাই আমি মনে করি এটি, সরিয়ে ফেলা ঠিক আছে।’

মেলানিয়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করার পর তার দেশের মানুষ আশা করেছিল তিনি একদিন জন্মভূমি সেভনিকায় ফিরবেন। কিন্তু তিনি কখনো সেখানে আসেননি। মেলানিয়ার স্মৃতিকে ঘিরে সেভনিকায় তৈরি হয়েছে নানা পণ্য— যেমন মেলানিয়ার নামে কেক, চকলেট এবং অন্যান্য স্যুভেনির। স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানার প্রায় ৬০ মাইল পূর্বে অবস্থিত এই শহর এখনো তার নামে বেশ পরিচিত।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply