প্রযুক্তি

প্রতিবছর লম্বা হচ্ছে মাউন্ট এভারেস্ট!

মাউন্ট এভারেস্ট, যা চোমোলুংমা নামেও পরিচিত গত ৮৯ হাজার বছরে প্রায় ১৫ থেকে ৫০ মিটার (৫০ থেকে ১৬৪ ফুট) উচ্চতা বেড়েছে। ইউরেশীয় প্লেটের উত্তরমুখী সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বে সৃষ্ট এই মাউন্ট এভারেস্ট কিভাবে নীরবে প্রত্যেক বছর ২ মিলিমিটার করে বেড়ে উঠছে, এটা একটা প্রাকৃতিক রহস্য।

নেচার জিওসায়েন্সের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নদী এবং কতিপয় অদৃশ্যমান শক্তি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু শিখরটিকে আরও উচ্চতা দিচ্ছে। একটু বিষদ ভাবে জানতে গেলে,

⛰️নদীর ভূমিকা:

অরুণ ও কোশি নদী শুধু আশপাশের ভূদৃশ্যকে তাদের পানির প্রবল শক্তিতে ক্ষয় করেই চলেছে না, বরং তারা এভারেস্টের উত্থানের প্রকৌশলেও ভূমিকা রাখছে। বিশাল গিরিখাত ক্ষয় করে, এই দুই নদী পৃথিবীর ভূত্বকের উপরে একটি অদৃশ্য ধাক্কা সৃষ্টি করছে, যা পর্বতের উচ্চতা বৃদ্ধিকে ট্রিগার করছে।

⛰️অন্যান্য শক্তির ভূমিকা:

১)আকাশমুখী শক্তি: 
আইসোস্ট্যাটিক রিবাউন্ড (Isostatic Rebound) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে ভূ-পৃষ্ঠ (Surface) ধীরে ধীরে উপরে ওঠে। এই শক্তি প্রতি বছর এভারেস্টের উচ্চতায় প্রায় ২ মিলিমিটার যোগ করে। বেইজিংয়ের চায়না ইউনিভার্সিটি অফ জিওসায়েন্সের ভূ-বিজ্ঞানী ড. জিন-জেন দাই এই প্রক্রিয়াকে পণ্য খালাসের সময় ওজন কমলে পানিতে ভেসে ওঠা একটি নৌকার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

২)প্রতিবেশী জীবন্ত পর্বতের প্রভাব:
এভারেস্টের প্রতিবেশী মাকালু(৫ম)এবং লোথসে(৪র্থ) পর্বত ও বেড়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। মাকালু, অরুণ নদীর নিকটতম পর্বত। যা প্রতি বছর ২.২ মিলিমিটার হারে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা এটিকে পৃথিবী এবং জলের মধ্যকার যে সামগ্রিক মেলবন্ধন বা ঐকতান রয়েছে, তার একটি আঞ্চলিক ভার্সন সৃষ্টি করে।

Leave a Reply