মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা এবং আত্মরক্ষার আইনি অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৯৬ ও ৯৭ ধারায় ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার স্বীকৃত। এ ছাড়া ১০০ ও ১০৩ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা কিংবা সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু ঘটতে পারে, এমন বল প্রয়োগের বিধান রয়েছে। তবে এসব অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত শর্ত ও সীমা অবশ্যই মানতে হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বক্তব্যে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক বা আলোচনা থাকলে, এর প্রকৃত অর্থ বুঝতে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
অপরাধ দমনে কঠোরতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আইন মেনে দায়িত্ব পালন, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার আইনস্বীকৃত হলেও তা কখনোই আইনবহির্ভূত বল প্রয়োগের অবাধ অনুমতি নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মধ্য দিয়েই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।






