জাতীয়

ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ৪ দিন অবজারভেশনে থাকবে, যেতে চাইলেই হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গু রোগীদের অন্তত চার দিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোগী হাসপাতাল ছাড়তে চাইলেও এ সময়ে তাকে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্লাজমা লিকেজ এড়াতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জ্বর কমে যাওয়ার পর ৪ দিন গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখতে হবে। রোগীরা চলে যেতে চাইলেও যেতে দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সিকিউরিটি দিয়ে হাসপাতালের গেট বন্ধ রেখে রোগীকে অবজারভেশনে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসময় মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। পৃথিবীতে এর আলাদা কোনো চিকিৎসা নেই। নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রটোকল রয়েছে। সে চিকিৎসা প্রটোকল দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসায় স্যালাইনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয় কোনো কিছুর সংকট হবে না।

ডেঙ্গু রোগীর প্লাজমা লিকেজের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়, সে জন্য আরও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে সরকারি হাসপাতালের আশপাশে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগের সরকারের সময়ে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করলে সেগুলোর অনুমোদন বাতিল করে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকার পরও সাপের কামড়ে রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিষধর সাপের দংশন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যেতে পারে। তাই সাপের কামড়ের পর কোনো ধরনের দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অক্টোবরে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সেখানে একসঙ্গে ১০ জন রোগীকে ডায়ালাইসিস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সময়ের মধ্যে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ সময় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply