ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চেয়েছেন, গত ছয় মাসে তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, না কি ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সেই জেলায় গান-বাজনা, সিনেমা নাকি বন্ধের মতোই। এই ছয় মাসে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন রিস্টোর করতে পেরেছেন কি না? এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না? নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছয় মাসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না, এটা একটা প্রশ্ন। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটা আরেকটা প্রশ্ন।’
হাসনাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডাটা দিলেন, সেই ডাটাটা কীসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন—সেই স্ট্যাটিস্টিক্সটা আমি জানি না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, তা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেসব ঘটনায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার কথা সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করলে ৩০০ বিধিতে সে বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারবেন।’
সামাজিক চাহিদার ভিত্তিতে আলোচিত ও অনালোচিত বিভিন্ন অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সহযোগিতা করেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রামিসা থেকে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এখানে কোথায় কী ব্যর্থতা আছে, বলতে হবে। আইন রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বা এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেনি—এগুলো বক্তব্যে চলে। এটা সংসদ। সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলে সংসদে এ নিয়ে বিতর্ক করা যাবে।






