অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
‘গাড়ি-ঘাট-আড়তে পাপেল চক্রের চাঁদাবাজি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে নিজের নাম যুক্ত করে চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য সাবেক সদস্য হাফিজুল হাসান শুভ্র।
সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ও তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং তাঁর বক্তব্য গণমাধ্যমে তুলে ধরার অনুরোধ করেছেন তিনি।
প্রতিবাদলিপিতে হাফিজুল হাসান শুভ্র বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি একজন নাগরিকের সম্মান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা অনভিপ্রেত। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যদিকে, প্রকাশিত তথ্য ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী সংশোধন ও প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা নিয়েও তদন্তের আহ্বান
প্রতিবাদলিপিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন শুভ্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং তিনি সদস্যপদ হারান।
এ বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং অভিযোগ যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের দপ্তরে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভ্র। ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া দায়ী করেননি বলেও তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে।
গাবতলী এলাকার ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতে অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি
গাবতলী এলাকার বাস টার্মিনাল, গরুর হাট, ইট-বালু-পাথরের ঘাট, কাঁচামালের আড়ত ও মাছের আড়তসহ বিভিন্ন ব্যবসাকেন্দ্রে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুভ্রের মতে, এসব ব্যবসাকেন্দ্রের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই চাঁদাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী, ব্যবসায়ী, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি।
একই সঙ্গে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি
প্রতিবাদলিপিতে হাফিজুল হাসান শুভ্র ছয়টি দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলো—
১. তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা।
২. অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পরীক্ষা করার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করা।
৩. রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রবেশ ও অবস্থানের রেকর্ডসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা।
৪. স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা।
৫. কেউ জেনেশুনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে থাকলে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
৬. প্রকাশিত সংবাদে কোনো তথ্য ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার নিশ্চিত করা।
‘সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়সংগত প্রতিকার চাই’
নিজের বক্তব্যের শেষাংশে হাফিজুল হাসান শুভ্র বলেন, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক সম্মান তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যাচাইহীন অভিযোগের কারণে এসব ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা তিনি চান না। একই সঙ্গে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচারও প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তাঁর প্রকাশ করা আশঙ্কা—উভয় বিষয়ই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি তাঁর কোনো বক্তব্য বা মন্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ধৈর্য, সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।






