তুরাগ নদী ও বৃহত্তর উত্তরা সংলগ্ন খাল-জলাশয়ের দূষণ রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উত্তরা কামারপাড়া ব্রিজ এলাকায় বাংলাদেশ নদী পরিবেশ রক্ষা অধিকার সোসাইটি, ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নদী পরিবেশ রক্ষা অধিকার সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম রবি। বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মোছাম্মৎ বিলকিস সুলতানা, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান খান, দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম ও ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবিউল ইসলাম রবি বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় তাদের সংগঠন ১৫ বছর ধরে কাজ করছে। এ সময়ে বিভিন্ন নদীর তীরে ২৫ লাখ গাছ রোপণ এবং ছোট-বড় সাতটি নদী পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। চলতি বছর এক কোটি বৃক্ষ রোপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান।
তিনি বলেন, নদী দূষণের কারণে হাওর, বাঁওড়, খাল ও বিলও দূষিত হচ্ছে। এতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি দূষণের কারণে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
রবিউল ইসলাম রবি বলেন, উত্তরার আশপাশের তুরাগ নদী ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষায় গত দুই মাস ধরে তাদের সংগঠন কাজ করছে। নদী দূষণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় Environmental Protection Plan (EPP) বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশের ক্ষতি কমাতে এ ধরনের পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এজন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে নদী ও জলাশয়ের আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, নদী ও জলাশয় রক্ষা শুধু কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি সংস্থা, স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।






