ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলায় সাংবাদিক না হয়েও প্রেসক্লাবের নামে কমিটি গঠন এবং ভুয়া ফটোকার্ড বানিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পেশাদার ও মূলধারার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি ভূল্লী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের কোনঠাসা করতে এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাব নামে একটি ভুয়া কমিটি গঠন করার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিকরা।
তাদের অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের নামে গঠিত কথিত সংগঠনটির সভাপতি নুরনবী আগে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি সাংবাদিকতা সম্পর্কে কিছু জানেন না এবং কী কিছু বুঝেন না। তিনি কোন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন বা তাঁর কোনো স্বীকৃত সাংবাদিক পরিচয় রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের প্রশ্ন, যথাযথ পেশাগত পরিচয় যাচাই ছাড়াই কীভাবে তিনি রাতারাতি সংগঠনটির সভাপতি হলেন? তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কী সে গুলো নিয়ে প্রশ্ন সাংবাদিক সমাজের এবং সে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি ফেসবুক আইডি খুলে সরকারের ও বিরোধী দলের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন কর্মকান্ডে সাংবাদিক সমাজ নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার পেশাগত পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন চায়ের দোকান করতেন। তবে তাঁর বর্তমান সাংবাদিকতা পেশায় সম্পৃক্ততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সংবাদমাধ্যমের পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। চায়ের দোকান বাদ দিয়ে রাতারাতি বনে যান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।
সংগঠনটির আরেক সদস্য মনিরঞ্জন দেবনাথ মনি সম্পর্কে অভিযোগকারীরা জানান, তিনি আগে ঔষধ কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বড়গাঁও ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর সম্পদ বৃদ্ধি ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। সরকার পতনের পর নিজের অপকর্ম ঢাকতে ভুয়া অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক বনে যান।
এছাড়া সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যদের সাংবাদিকতা পেশায় কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ও পেশাগত যোগ্যতাও নেই এবং কী তারা কখনো সংবাদ মাধ্যমে নিউজ করেননি বলে জানা যায়। তাহলে কী ভাবে তারা রাতারাতি প্রেসক্লাবের সদস্য বনে গেলেন, প্রশ্ন সাংবাদিক সমাজের।
এছাড়াও কয়েকটি ফেসবুক আইডিতে ভুয়া সাংবাদিক সংগঠনের ফটোকার্ড বানিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এমন জঘন্যতম অপরাধ মূলক কার্যকলাপের জন্য ভূল্লীতে পেশাদার সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এ গুলোর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ (মামুন) বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। এই পেশার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সাংবাদিক না হয়েও কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো সংগঠন গঠন করেন এবং সেই পরিচয়ের অপব্যবহার করে অপপ্রচার চালান, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, ভূল্লী উপজেলায় কর্মরত প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের কোনঠাসা করতে কয়েকজন অপেশাদার কথিত সাংবাদিক এসব কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। পেশাদার সাংবাদিকরা ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাব নামে যেন কোন প্রেসক্লাব না করতে পারে সে জন্য তারা এঅ জঘন্যতম কার্যকলাপ চালাচ্ছে।
এ দিকে পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয় বাংলা টিভির ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয় দৈনিক যুগের আলোর প্রতিনিধি শাহিন আলম।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, একটি প্রেসক্লাব পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয়, সংগঠনের স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকতার নামে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তারা।






