মেয়েটি এক বছর এক মাস প্রতি বুধবার (গণশুনানীর দিনে) ডিসি অফিসে এসেছে।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের ওয়াল থেকে…..
লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে অফিসে এসেছিল। সেদিন তাকে কিছু সহজ বিষয় জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তেমন উত্তর দিতে পারেনি।
তাকে পড়ার কিছু কৌশল দেখিয়ে সাত দিনের পড়া দিয়ে বলেছিলাম , “প্রতি বুধবার ডিসি অফিসে এসে পড়া নিয়ে যাবে এবং তোমাকে যদি সাহায্য করি তা চার মাস পরে করব ।”
সে প্রতি বুধবার ডিসি অফিসে এসে সাত দিনের পড়া নিয়ে যেত , মাঝে মাঝে দু’ এক মিনিট তাকে পড়া জিজ্ঞাসা করতাম।
তাকে বলেছিলাম, “প্রতিদিন একই সময়ে, একই হারে পড়বে; রাতে দুই ঘন্টা আর ভোরে দুই ঘন্টা পড়বে এবং রাত ১০ টায় ঘুমাবে, ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠবে, বিকালে এক ঘন্টা খেলবে। ক্লাস হোক বা না হোক প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাবে। ” ব্যাস….
তার বিদ্যালয় থেকে ৪৩ জন এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ২২ জন পাস করেছে এবং কেবল সে-ই “এ প্লাস” পেয়েছে ( তাকে আজ আবার নতুন পড়া বুঝিয়ে দিলাম)।
এমন হাজারো সাদিয়া রয়েছে আমাদের চারপাশে, সারা দেশে; যারা লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ-কলম পায় না।
অথচ আমরা কত টাকা প্রতিদিন জলে দিচ্ছি!
সারা দেশের মতো দিনাজপুর শহরও ফেস্টুন, প্লাকার্ড, ব্যানার,পোস্টার, তোরণে ছেয়ে গেছে। এসব টাকা পয়সা সঠিক কাজে লাগালে দেশ অন্যরকম হয়ে যেত।
দেশের আইন , বিধি-বিধান উপেক্ষা করে আমরা অনেকেই এমন কাজ করছি।
আসুন,
দেশের আইন মেনে চলি,
সমাজের প্রতি চোখ ফেলি,
সাদিয়াদের পাশে দাঁড়াই,
সহযোগিতার হাত বাড়াই,
সব অপচয় রোধ করি,
স্বপ্নের বীজ রোপন করি।
অভিনন্দন! সাদিয়া আফরিন,
তোমাদের জয় হোক






