সারাদেশ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে অল্পের জন্য রক্ষা পেল হাজারো যাত্রী

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সামনের লেভেল ক্রসিং এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে পাথরবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ট্রেনে থাকা শত শত ঘরমুখো যাত্রী ও স্থানীয় মানুষজন। তবে সংঘর্ষে ট্রাকটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে ওই রুটের ট্রেন চলাচল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সামনের লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় হঠাৎ করেই একটি পাথরবোঝাই ট্রাক রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি ট্রেন ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং রেললাইনের ওপর আটকে পড়ে। এতে ট্রেনের সামনের অংশেও ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দুর্ঘটনার পর বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে আশপাশের কয়লা খনির শ্রমিক, দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দ্রুত খবর দেওয়া হয় রেলওয়ে প্রশাসন, জিআরপি থানা ও ফায়ার সার্ভিসকে। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নেয় এবং কিছু সময় পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বড়পুকুরিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি রেলক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় গেটম্যান না থাকা, সতর্ক সংকেত অকার্যকর থাকা এবং বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।
একজন পরিবহন বিশেষজ্ঞ বলেন, “বাংলাদেশের অধিকাংশ লেভেল ক্রসিংয়ে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। চালকদের অসচেতনতা এবং রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা একসঙ্গে এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
রেল নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানান, ব্যস্ত রেলপথে স্বয়ংক্রিয় গেট, উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংগুলো দ্রুত আধুনিকায়নের দাবি জানান।
মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, “প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বারবার দুর্ঘটনা ঘটার পরও যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তা চরম অবহেলার সামিল।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো এলাকা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply