সারাদেশ

শ্রীমঙ্গলে চা প্যাকেজিং ফ্যাক্টরিতে দুঃসাহসিক চুরি, উধাও কোটি টাকার মালামাল

রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চক্রের হানা ভেঙে ফেলা হয় ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের দাবি— পরিকল্পিতভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মূল্যবান মালামাল ও যন্ত্রাংশ

শ্রীমঙ্গল থানাধীন হাউজিং এস্টেট এলাকায় অবস্থিত সিনথিয়া টি কোম্পানি লিমিটেডের জনপ্রিয় সুপার টি চায়ের প্যাকেজিং ফ্যাক্টরিতে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ২টার দিকে দুর্বৃত্তরা ফ্যাক্টরির প্রধান গেইটের দুটি তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা মেশিনরিজ ও প্যাকেজিং রুমের তালা ভেঙে মূল্যবান প্যাকেজিং মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফ্যাক্টরিতে প্রায় কোটি টাকার মালামাল ছিল বলে জানা গেছে।
এসময় ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থানরত কেয়ারটেকার শব্দ পেয়ে নিচে নেমে আসলে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে কেয়ারটেকার আজিজুল বিষয়টি মালিকপক্ষকে ফোনে জানান। পরবর্তীতে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে।


পুলিশের উপস্থিতিতে আপাতত ফ্যাক্টরির গেটে নতুন তালা লাগানো হয়েছে। তবে চুরি হওয়া মালামালের সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ফ্যাক্টরি মালিক ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি আগামী ২-১ দিনের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
ফ্যাক্টরি মালিক আরও জানান, ফ্যাক্টরির বাকি মালামাল নিয়েও আমি বিপদের আশঙ্কা করছি। এই চুরির পেছনে একটি বড় অপরাধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। আমি শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইনি, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছি এবং বাকি মালামাল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তবে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাক্টরির মালিক ঢাকায় বসবাস করায় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানিয়েছেন, একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা দাবি করেন, চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে জানমাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তারা রাতের টহল জোরদার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সজাগ দৃষ্টি বৃদ্ধি এবং চোর-ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ থাকতে পারেন।

এদিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয় থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply