সারাদেশ

শাপলা কলির পক্ষে ভোট করায় চাকরি গেল খতিবের

জাতীয় নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কুচিয়ামোড় জামে মসজিদের খতিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মসজিদের মুসল্লি আব্দুল হাকিম ফোন করে তাকে মসজিদে না আসার জন্য বলেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুল জব্বার। অভিযুক্ত মুসল্লি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সারজিস আলম। তার প্রতীক ছিল শাপলা কলি। খতিব মো. আব্দুল জব্বার জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি ওই প্রতীকের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারজিস আলম পরাজিত হন। এর পরদিন শুক্রবার সকালে মসজিদের মুসল্লি আব্দুল হাকিম ফোন করে তাকে মসজিদে না আসার জন্য বলেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার বলেন, ২০০৮ সাল থেকে আমি এই মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো কিছু না জানিয়ে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, সারজিস আলমের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে ভোট করার কারণেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবহান বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে মত পার্থক্যের জেরে এমন ঘটনা শোনা যেত। বর্তমান সময়ে এমন ঘটনা দুঃখজনক।

অভিযুক্ত আব্দুল জব্বার বলেন, হুজুর জামায়াতের রাজনীতি করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে বলা হচ্ছে, আপনি রাজনীতি করবেন কেন? আপনার পিছনে সব মতের মানুষ নামাজ পড়ে। আপনি রাজনীতি করলে বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু তিনি রাজনীতি করেই গেছেন। এজন্য আমরা নতুন খতিব খুঁজছি।

মসজিদের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, আমরা ব্যাপারটা নিয়ে বসছিলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি রমজান মাসের পর তাকে বাদ দেব।

এ বিষয়ে কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান বলেন, এমন ঘটনা শুনেছি। ভোটের কারণে খতিবকে সরিয়ে দেওয়া অবশ্যই অন্যায়। প্রকৃত ঘটনা জানতে আমি খোঁজ নেব।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply