চিকিৎসা পেশা মানবসেবার এক পবিত্র ক্ষেত্র। কিন্তু সেই পেশার ছদ্মবেশে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার সাভারে। উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বাজারে রুকাইয়া ডেন্টাল কেয়ার” নামে একটি ভুয়া দন্তচিকিৎসা কেন্দ্রের মালিক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো প্রকার একাডেমিক সার্টিফিকেট, ডেন্টাল প্রশিক্ষণ বা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর নিবন্ধন ছাড়াই রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে “ডেন্টাল সার্জন” পরিচয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তিনি চিকিৎসার নামে সরল-সোজা রোগীদের ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই প্রতারক রুহুল আমিন এক সময় নিঃস্ব অবস্থায় এসেছিলো কাউন্দিয়ায় বতর্মানে রুকাইয়া ডেন্টাল কেয়ার দন্ত্য চিকিৎসা চেম্বার দিয়ে চিকিৎসার নামে অপ চিকিৎসা দিতে প্রতারণা মাধ্যমে এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক।
অভিযুক্ত রুকাইয়া ডেন্টাল কেয়ার এর মালিক রুহুল আমিনের বিষয়ে দৈনিক আমাদের সমাচার প্রতিনিধি সরজমিন অনুসন্ধানে গেলে।
ভুয়া চিকিৎসাক রুহুল আমিনের কাছে চিকিৎসা নিতে এসে তার প্রতারণার শিকার কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মনজুর রহমান ভূইয়া আমাদের সমাচার’কে বলেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর দাঁতের ব্যথা নিয়ে আমি রুকাইয়া ডেন্টাল কেয়ারে যাই। সেখানে রুহুল আমিন এক্স-রে করার পর বলেন, আপনার অবস্থা ভালো না আপনি বাঁচতে চাইলে এখনই আপনার তিনটি দাঁত তুলতে হবে এবং আরও চারটি দাঁতের রুট ক্যানেল করতে হবে। তার কথা শুনে আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে দাঁত উঠতে রাজি হই। পরে তিনি তার এক সহকারীকে নিয়ে আমার দাঁত তুলতে এলে আমি তার সহকারীর পরিচয় জানতে চাইলে রুহুল আমিন তাকে ঢাকা ১৪ নম্বর ডেন্টাল হসপিটালের সহকারী অধ্যাপক বলে পরিচয় দেন পরে তারা দুজনে মিলে আমার একটি দাঁত তুলে আমাকে ঔষধ লিখে দেন বলেন এই সকল ঔষধ খেয়ে পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে।
তিনি আরও জানান, তার দেয়া ঔষধ খাওয়ার পরেও ব্যথা না কমলে পরিবারের পরামর্শে আমি ধানমন্ডির লিমা ডেন্টাল কেয়ারে যাই। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, তার দাঁতে কোনো জটিলতা ছিল না এবং পূর্বের চিকিৎসা সম্পূর্ণ ভুল ও অপ্রয়োজনীয়’ছিল। পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম আমি ভুয়া চিকিৎসক রুহুল আমিনের প্রতারণা শিকার হয়েছি বুঝতে পেরে আমি গত ৬ অক্টোবর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ব্যস্ততম বাজারে এমন ভুয়া দন্তচিকিৎসালয়ের বিষয়ে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক মোহাম্মদ মহাসিনুজ্জানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সাংবাদিক’কে বলেন। চিকিৎসা সেবা শুধু চিকিৎসা নয়, এটি মানবতার প্রতীক,মানুষ জীবনের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তে বিশ্বাস নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যায়। সেখানে যদি কেউ প্রতারণা করে, তাহলে তা শুধু অপরাধ নয়—মানবতার বিরুদ্ধেও অপরাধ। তিনি আরও বলেন বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি BMDC-এর অনুমোদন বা চিকিৎসা ডিগ্রি ছাড়া রুকাইয়া ডেন্টাল কেয়ার যদি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা ও চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে থাকে। তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসন কখনোই এমন অপচিকিৎসা ও প্রতারণাকে প্রশ্রয় দেবে না। অতি দ্রুতই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে রুকাইয়া ডেন্টাল কেয়ারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইননুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুকাইয়া ডেন্টালের মালিক রুহুল আমিনের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সাংবাদিক’কে জানান — আমি ৪–৫ বছর ধরে কাউন্দিয়া বাজারে চেম্বার দিয়ে বিভিন্ন ডেন্টাল হসপিটাল থেকে বিডিএস এনে আমার চেম্বারে রুগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছি। মাঝে মধ্যে,একটু ভুল হতেই পারে আমি ডিপ্লোমা করছি, আমার ট্রেড লাইসেন্স আছে — BMDC নিবন্ধন আমার দরকার নাই। আপনি সাংবাদিক আপনি আসছেন আপনার জন্য কি করতে হবে বলেন। উপস্থিত প্রতিনিধি বলেন আমাদের জন্য আপনার কিছুই করতে হবে আপনি শুধু আপনার বৈধ কাগজপত্র ও BMDC নিবন্ধন দেখতে চাই। প্রতিনিধির এই কথায় রুহুল আমিন সহ অজ্ঞাত কয়েকজন মুঠোফোনে প্রতিনিধি’কে মেনেজ করার চেষ্টা করে,ব্যর্থ হলে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আপনি পারলে আমার নামে সংবাদ লিখে দেন।
গোপন সূত্রে জানা যায় কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত এস আই শফি তার ডেন্টালে বসে আড্ডা দেয়। এ বিষয়ে সমাজের সচেতন নাগরিক’রা
গণমাধ্যম’কে বলেন, ভুয়া চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা বা লাইসেন্স ছাড়া রোগীর চিকিৎসা করেন। এর ফলে ভুল চিকিৎসা, ওষুধের অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, সংক্রমণ, স্থায়ী ক্ষতি, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
ভুয়া চিকিৎসা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটি রোগীদের জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। তাই সকলের উচিৎ চিকিৎসা নেওয়ার পূর্বে চিকিৎসকের বৈধতা যাচাই করা অপরিহার্য।
সাভারের এই ঘটনা শুধু একটি প্রতারণার কাহিনি নয়, এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—চিকিৎসা নিতে গেলে সতর্ক থাকা ও বৈধ চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।






