ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলায় জমিতে প্রবেশ করে প্রায় ৩০০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ভূল্লী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোছাঃ রাশেদা বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভূল্লী উপজেলার সিংগিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ রাশেদা বেগমের স্বামী মোঃ পারভেজ ইসলাম (রিংকু) ঢাকায় লেগুনা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর স্বামী ক্রয়সূত্রে সিংগিয়া মৌজার ২৮ শতক জমির মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে বিভিন্ন সময়ে কলাগাছ রোপণও করা হয়।
লিখিত অভিযোগে রাশেদা বেগম উল্লেখ করেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাড়িতে অবস্থানকালে খবর পান, তাঁদের জমিতে থাকা কলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০০টি কলাগাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এতে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন—মোস্তফা (৪৫), মুসা (৪০), উভয়ের পিতা তুলাব উদ্দিন এবং নাসিমা বেগম (৫০), স্বামী মৃত মুসলিম উদ্দিন, সকলের সাং-সিংগিয়া, থানা-ভূল্লী, জেলা-ঠাকুরগাঁওসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন ব্যক্তি ওই জমিতে গিয়ে কলাগাছ কাটার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ঘটনার বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে অভিযোগে মোঃ আব্দুল আজিজ (৫০), মোছাঃ দুলালী বেগম (৫০) ও তনজিনার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সিংগিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে আরও সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার পর বিষয়টি নিকটাত্মীয়-স্বজনদের অবহিত করে তাঁদের পরামর্শ নেওয়ার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ ঘটনায় জমির মালিকানা ও ভোগদখল সংক্রান্ত কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, কলাগাছ কাটার পেছনে কারা জড়িত এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মোছাঃ রাশেদা বেগম তাঁর স্বামীর মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করে কলাগাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূল্লী থানার পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।






