বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার হেমায়েতপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী; মিরপুরে ডিসি হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার ও এডিসি মোঃ জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশংসনীয় অগ্রগতি
রাজধানীর গাবতলীতে যুবক অপু রাড়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোশারফ হোসেন মুসাকে গ্রেপ্তার করেছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। হেমায়েতপুরের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মুসা এলাকায় চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, মোশারফ হোসেন মুসার বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল, সাভার ও কোতোয়ালী থানায় মোট সাতটি মামলার তথ্য রয়েছে। এসব মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মারামারি, অস্ত্রসংশ্লিষ্ট অপরাধ, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী এলাকার জাফরিন গার্ডেনের সামনের রাস্তায় পূর্বশত্রুতার জেরে অপু রাড়ী (২৫) নামের এক যুবকের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান।
অবস্থার অবনতি হলে ১৭ জুলাই তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মোহাম্মদপুরের বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টা ২৭ মিনিটে অপু রাড়ী মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সোহান রাড়ী বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে গত ১ আগস্ট ২০২৬ মিন্টু (৪০) নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এবার মামলার প্রধান আসামি মোশারফ হোসেন মুসাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে।
পুলিশের সরবরাহ করা নথিতে মোশারফ হোসেন মুসার বিরুদ্ধে থাকা সাতটি মামলার বিবরণে দেখা যায়, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি, সাভার থানায় তিনটি এবং কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে মিরপুর মডেল থানার এফআইআর নম্বর-১৭, তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৫; দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৫/৩০৭/৩২৬/১০৯/ ৩৪ ধারায় মামলা। সাভার থানার এফআইআর নম্বর-৯, তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৫; দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪২/৩২৩/ ৩২৬/৩০৭/৩৬৪/৩৭৯/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ ধারায় মামলা। সাভার থানার এফআইআর নম্বর-৯৫, তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২২; দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩২৪/৫০৬/১১৪ ধারায় মামলা। মিরপুর মডেল থানার এফআইআর নম্বর-২৯, তারিখ ১২ মে ২০২৫; দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৬/৩০৭/১১৪/৫০৬(২) ধারায় মামলা। কোতোয়ালী থানার এফআইআর নম্বর-১৩, তারিখ ২০ জুলাই; ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২২(গ) ধারায় মামলা। সাভার থানার এফআইআর নম্বর-৩০, তারিখ ১০ জুলাই ২০০৯; দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৮৫/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬ ধারায় মামলা। মিরপুর মডেল থানার এফআইআর নম্বর-২৩, তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২৫; দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩০৭/৩২৩/৩২৪/১১৪/৩৪ ধারায় মামলা।
এদিকে রাজধানীর মিরপুর অঞ্চলে অপরাধ দমনে পুলিশের সাম্প্রতিক তৎপরতা প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোঃ জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার এবং এডিসি মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিরপুর জোনে যোগদানের পর থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধ এবং মাদক কারবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক তৎপরতা মিরপুরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। ডিসি হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার ও এডিসি মোঃ জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের এ ধরনের পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মিরপুরকে আরও নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা সবার।
দারুস সালাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপু রাড়ী হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযানসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। গ্রেপ্তার মোশারফ হোসেন মুসাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।






